ভারতের বিশ্বকাপ বসছে ঢাকায়, বাংলাদেশের লক্ষ্য শীর্ষ তিন

জাতীয় খেলা কাবাডির বিশ্ব আসর এবার বসছে ঢাকায়। আগামী ১৫ থেকে ২৫ নভেম্বর মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে নারী কাবাডি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন।

এর আগে চলতি বছরের ৩ থেকে ১৩ আগস্ট ভারতের হায়দরাবাদে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ তখন অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আয়োজকরা আসরটি স্থগিত করে। তিন মাস পর সেই স্থগিত বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হলো বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপ আয়োজনের বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বাকি অর্থ স্পন্সরদের মাধ্যমে সংগ্রহ করবে ফেডারেশন। কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস. এম. নেওয়াজ সোহাগ জানান, “অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিমান ভাড়া বহন করবে আন্তর্জাতিক ফেডারেশন। তবে ঢাকা পৌঁছানোর পর থেকে ফেরার আগ পর্যন্ত থাকা-খাওয়া, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বহন করবে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন।”

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের গুরুত্ব অনেক বেশি। কাবাডি ফেডারেশনের প্রস্তাবের পর আমরা প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন দিয়েছে, এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।”

বাংলাদেশ নারী কাবাডি লিগ

আগে আমন্ত্রণমূলক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেও, কাবাডি বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজন এবারই প্রথম বাংলাদেশে। ফেডারেশনের সহসভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহের হোসেন জানান, “স্টেডিয়ামটি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত হলেও বিশ্বকাপের আগেই দলগুলোর অনুশীলনের সুযোগ থাকবে। আমরা আন্তর্জাতিক ফেডারেশনের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত নির্দেশনা মেনে সব ব্যবস্থা নেব।”

এবারের আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নেবে ভারত, আর্জেন্টিনা, চাইনিজ তাইপে, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ইরান, জাপান, কেনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, নেপাল, থাইল্যান্ড, উগান্ডা এবং জাঞ্জিবার। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে পাকিস্তান ও পোল্যান্ডকে।

বাংলাদেশ নারী কাবাডি দলের লক্ষ্য নিয়েও আশাবাদী সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ সোহাগ—“সম্প্রতি এশিয়া কাপে আমরা ব্রোঞ্জ জিতেছি। তাই বিশ্বকাপেও শীর্ষ তিনে থাকার লক্ষ্য নিয়েই নামব।”

১৪ দলের এই টুর্নামেন্টে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর দুই-তিন দিন আগে ড্র অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

২০১২ সালে হয়েছিল প্রথম নারী বিশ্বকাপ। ইরানকে ফাইনালে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইতালির গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে উঠেছিল। সেখানে জাপানের কাছে হেরে যায়।