‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান–২০২৫’ উপলক্ষে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। বুধবার (১৫ অক্টোবর) গভীর রাতে পদ্মা নদীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার সময় ১১ জন জেলেকে আটক করা হয়। দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
নৌ পুলিশের ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় এবং দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহার নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। আটক ১১ জেলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ‘মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন, ১৯৫০ (সংশোধিত ১৯৯৩)’–এর ৫(২)(খ) ধারায় চারটি নিয়মিত মামলা দায়ের করে রাজবাড়ী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটক জেলেরা পাবনা ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
অভিযান চলাকালে জেলেদের হেফাজত ও নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া প্রায় ২৫ লাখ বর্গমিটার কারেন্ট জাল নৌ পুলিশের এসপি আবদুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া উদ্ধারকৃত ৫ কেজি ইলিশ মাছ স্থানীয় এনজিও ‘পায়াক্ট বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে অসহায় ও এতিম শিশুদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের ওসি ত্রিনাথ সাহা জানান, ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৩৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত মামলার মাধ্যমে মোট ৬০ জন জেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলমান অভিযানে মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৩৬ হাজার বর্গমিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ২৬০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করে বিভিন্ন এতিমখানা ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এবং ৭টি নৌকা উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌ পুলিশের এসপি আবদুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, “মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে পদ্মা নদীতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তিনি জেলেদের প্রতি আইন অমান্য না করার আহ্বান জানান।
অভিযানকালে নৌ পুলিশের ফরিদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সাজিদ হোসেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, গোয়ালন্দ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট, দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. লুৎফর রহমান ও এসআই মেহেদী হাসান অপূর্বসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।