ডা. এ. হাসনাত শাহীন
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিশেষজ্ঞ, ইমপালস হাসপাতাল তেজগাঁও, ঢাকা
গুটি গুটি পায়ে শীত আসছে। শীতেই শুরু হবে খেজুরে গুড়ের পিঠাপুলি খাওয়ার ধুম। এ সময়ে পিঠাপুলি, খেজুরের রসের পায়েশ, বিভিন্ন মিষ্টান্নসহ উপাদেয় খাবারের ধুম পড়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের খাবারগুলো যতই রসনাবিলাস হোক না কেন, অন্য খাবারগুলোর তুলনায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। শীতের কারণে অনেক সময় নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করা হয়ে ওঠে না। ফলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস হয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রণহীন। এ সময়টায় নিজেকে সামলে চলতে হবে।
কখন হাঁটবেন : প্রতিদিন অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। তীব্র শীতে ভোরের দিকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। এক্ষেত্রে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আক্রান্তদের ঝুঁকি বেশি। তাই এই শীতে কুয়াশার মধ্যে না হেঁটে, একটু রোদ উঠলে হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করা উচিত। সকালের হালকা রোদে হাঁটুন। তাও না পারলে বিকেলে বা দিনের অন্য যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে হাঁটতে পারেন। একদম খালি পেটে বা ভরা পেটে হাঁটা বা ব্যায়াম করা ঠিক নয়।
কী খাবেন : মিষ্টি জাতীয় খাবার, গুড়, চিনি বা রসের তৈরি পিঠাপুলি, পায়েশ খাওয়া বাদ দিন। যদি একান্তই খেতে মন চায় তবে চিনি বা গুড়ের বদলে কৃত্রিম মিষ্টকারক যেমন সুক্রোলোজ, এসপার্টেম প্রভৃতি ব্যবহার করুন। দাওয়াতে অংশগ্রহণ করলে ডেজার্ট, কোল্ড ড্রিংকস বাদ দিন। বেছে নিন সালাদ, সবজি, রোস্ট, গ্রিলড খাবার।
এই সময়টায় বাজারে প্রচুর শাকসবজি পাওয়া যায়। বেশি করে শাক-সবজি ও ফল খান। এগুলোর মধ্যে থাকা ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের সজীবতা বজায় রাখে, খাদ্য হজমে সাহায্য করে। শরীরের নিস্তেজ ভাব কাটায়। টাটকা ফল ও সবজিতে রয়েছে বায়োটিন যা ত্বক ও চুল ভালো রাখে। বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
সতর্কতা : শীতের সময়ের ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে সমস্যা হওয়ার ঝুঁঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীরা প্রতিদিন পা পর্যবেক্ষণ করুন। ত্বকে কোনো ফাটা, ক্ষত, রঙে পরিবর্তন বা ব্যথা আছে কিনা লক্ষ্য করুন। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। পায়ের আঙুলের ফাঁকগুলোয় অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন না। হালকা গরমপানিতে পা ডোবানো, বৈদ্যুতিক কম্বল, হিটিং প্যাড ও রেডিয়েটর ব্যবহারের সতর্ক থাকুন। সঠিক মাপের জুতা পরুন, পা শুষ্ক রাখুন।
সর্দি-কাশি, টনসিলাইটিস, নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট বাড়ে শীতে। এ ছাড়া আর্থ্রাইটিস বা বাতব্যথা, হার্টের সমস্যার প্রকোপ বাড়ে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে এসব রোগের জটিলতা বেড়ে যায়। শীতের কুয়াশা, ধুলাবালি বা বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফুলের রেণু শ্বাসকষ্ট বাড়ায়। যাদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট আছে, তাদের আরও সাবধান হতে হবে। বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করুন। ঠান্ডাজনিত অসুখ থেকে বাঁচতে আরামদায়ক শীতের কাপড় পরা জরুরি। নিয়মিত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ করে ইনসুলিন বা ওষুধের মাত্রা নির্ধারণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারা মেনে চললে শুধু এই শীতেই নয়, ডায়াবেটিস নিয়ে সবসময় থাকতে পারবেন সুস্থ। তার জন্য সবসময় সচেতন থাকতে হবে।