আটকেপড়া যাত্রী নিয়ে সৈয়দপুর ছাড়ল ৬ ফ্লাইট

ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টার পর থেকে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ঢাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব পড়ে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরেও। ফলে ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে গত ৬ ঘণ্টায় অন্তত ৬টি ফ্লাইট বিলম্ব হয়েছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলে রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে সৈয়দপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আটকে পড়া অন্তত ৪০০ যাত্রী নিয়ে ৬টি বিমান সৈয়দপুর বিমানবন্দর ত্যাগ করে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক এ কে এম বাহাউদ্দিন জাকারিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। ঢাকা থেকেও বিমান নামবে। সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীরা সাময়িক কষ্ট পেয়েছেন। নিরাপত্তার কোন ঘাটতি ছিলো না, যাত্রীদের সকল সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা ছিল।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শিডিউল অনুযায়ী বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রার ৬টি ফ্লাইট সৈয়দপুর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। সাময়িক স্থগিত ফ্লাইটগুলোতে অন্তত ৪০০ যাত্রীর ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল। 

অগ্নিকাণ্ডের পূর্বে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে যায়। আড়াইটার দিকে বিমানটি ঢাকায় পৌঁছালে অবতরণ করতে পারেনি। পরে বিমানটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করা হয়। এদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এয়ার অ্যাস্ট্রার একটি বিমান বিকেল ৩টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এছাড়া এয়ার অ্যাস্ট্রার আরও ২টি, নভোএয়ারের ২টি ও ইউএস বাংলার ২টি ফ্লাইট সৈয়দপুরে অবতরণ করে। কিন্তু ঢাকার ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় উড্ডয়ন করতে পারেনি। রাত ৯টার পর থেকে ঢাকার উদ্দেশে আটকে থাকা ফ্লাইটগুলো রওনা হয়।

নভোএয়ার ফ্লাইটের যাত্রী দিনাজপুরের আকবর হোসেন বলেন, ব্যবসায়িক মিটিংয়ের জন্য বিকেলের ফ্লাইটে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট দেরি হওয়ায় মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে পারিনি।

অপর এক যাত্রী ইসতিয়াক রহমান বলেন, সকালে জরুরী কাজে রংপুর এসেছিলাম। সন্ধ্যার ফ্লাইটে ঢাকা ফেরত যাওয়ার কথা ছিল। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বসে ছিলাম। 

প্রসঙ্গত, শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি স্টেশনের ৩৬টি ইউনিট কাজ করছে। এছাড়া বিমানবন্দর বাহিনীর ফায়ার ইউনিট, ঢাকা ওয়াসার গাড়িও দেখা যায়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িক স্থগিত করা হয়। বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে ঢাকা অভিমুখী অন্তত ৮টি আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বিকল্প গন্তব্যে অবতরণ করে।