১৯ আসনে মনোনয়ন চান বিএনপির ১২৯ প্রার্থী

সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চান ১২৯ জন নেতা। মনোনয়নপ্রত্যাশী এই বিপুলসংখ্যক নেতাদের নিয়ে গতকাল রবিবার বিকেলে ঢাকায় বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মির্জা ফখরুল মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় সংগঠন শক্তিশালী করা এবং প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, দলের মহাসচিব প্রার্থিতা নিয়ে যাতে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-কোন্দল সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, প্রার্থিতার প্রচারে নেমে কোন্দলে জড়ালে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে তাকে বিজয়ী করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি আসনে ত্যাগী, যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাকেই দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে। ফখরুল বলেন, ‘মনোনয়ন ঘোষণার পর সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একজন প্রার্থী নির্ধারিত হওয়ার পর বাকিদের দায়িত্ব হবে তাকে বিজয়ী করা।’

বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জানিয়ে দেন, প্রতিটি আসনে একজনকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে। তবে বিকল্প হিসেবে আরও দুজনের নাম সংরক্ষণ করা হবে। মনোনীত প্রার্থীর কোনো কারণে সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প তালিকার মধ্য থেকে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে অবশ্যই সবাইকে কাজ করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় দল মেনে নেবে না।

বৈঠক শেষে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈঠকে দলের মহাসচিব মূলত দলীয় বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি, আবার কাউকে মনোনীতও করা হয়নি।’

সিলেট-৩ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দল মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার কথা বলেছেন মহাসচিব।’ এমএ মালিক আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই দল বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে কোন নেতার কী ভূমিকা ছিল তা মূল্যায়ন করেই মনোনয়ন দেবে। যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে দল মনোনীত করলে তার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবে।’

সিলেট-৪ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুল হাকিম চৌধুরী জানান, নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশার আলোকে নিশ্চয়ই মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে। মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিলেট-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বৈঠকে মনোনয়ন চূড়ান্ত বিষয়ে কোনো কথা হয়নি, সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরে যাকে প্রার্থী দেওয়া হবে তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে।’