ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে রিশাদ হোসেনের ঝলক দেখল ক্রিকেট দুনিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন ৭৪ রানের জয়। তরুণ এই লেগ স্পিনারের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ, যিনি এখন তাঁকে দেখতে চান টেস্ট ক্রিকেটেও।
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে সংবাদ সম্মেলনে মুশতাক বলেন, “আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত রিশাদ টেস্ট খেলতে পারে। কারণ, সব দলেই শেষ চার ব্যাটসম্যান এখন ভালো ব্যাট করতে পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডেও শেষের দিকের ব্যাটাররা লেগ স্পিনারের বিপক্ষে সহজে টিকতে পারে না। রিশাদের উচ্চতা আর বাউন্স তাকে আরও কার্যকরী করে তোলে।”
রিশাদের বোলিং বৈচিত্র্য ও ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশংসা করেন পাকিস্তানের সাবেক এই স্পিনার। তাঁর ভাষায়,“রিশাদের মতো উচ্চতা ও বাউন্সসহ একজন লেগ স্পিনার, যিনি ভুল ডেলিভারি ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারেন—তিনি খুব মারাত্মক হতে পারেন। শেষের ব্যাটসম্যানরা তার রং আর্ম (ভুল ডেলিভারি) পড়তে পারবে না। টেস্ট ক্রিকেটে সে খুব ভালো করতে পারবে, তবে জায়গাটা তাকে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে অর্জন করতে হবে।”
প্রথম ওয়ানডেতে সাত ওভারে ২৫ রানে পাঁচ উইকেট নেওয়া রিশাদ ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন। মুশতাক জানালেন, এমন উইকেটে বোলিং করা যতটা সহজ মনে হয়, আসলে ততটা নয়—“সত্যি বলতে, এটা খুব সহজ ছিল না। এমন উইকেটে স্পিনারদের বেশি চাপের মধ্যে থাকতে হয়, কারণ সবাই চায় আপনি সেরাটা দিন। তরুণ লেগ স্পিনার হিসেবে নার্ভাস হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু রিশাদ সেই চাপটা দারুণভাবে সামলেছে এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো লাইন-লেংথে বল করেছে।”
রশিদ খানের সঙ্গে তুলনা টেনে মুশতাক আরও বলেন, “রিশাদের বোলিং ইদানীং অনেকটা রশিদের কাছাকাছি। তাই আমি চেয়েছি রশিদের সঙ্গে তার আলাপ করিয়ে দিতে। রশিদ, আদিল রশিদদের মতো লেগ স্পিনারদের সঙ্গে কথা বলা তরুণদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন সবাই আন্তর্জাতিকভাবে রিশাদকে মূল্যায়ন করছে, ওদের পরামর্শ তাই ওর জন্য জরুরি।”
বাংলাদেশ ক্রিকেটে লেগ স্পিনারের অভাব দীর্ঘদিনের। সেই শূন্যতা পূরণ করছেন ২৩ বছর বয়সী রিশাদ। ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি মিলিয়ে ৬০ ইনিংসে ৭৭ উইকেট নেওয়া এই লেগি এখন সাদা বলের ক্রিকেটে দলের ভরসার নাম।
তবে লাল বলের ক্রিকেটে তাঁকে দেখা যায় কমই। ২০১৮ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত খেলেছেন মাত্র ২১টি ম্যাচ, নিয়েছেন ৩১টি উইকেট। মুশতাক জানান, রিশাদ নিজেও টেস্টে খেলার জন্য প্রস্তুত হতে চান—“যদিও সে এখন টেস্ট দলের অংশ নয়, তবে তার তা হতে হবে। রিশাদ নিজেও চার দিনের ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী। কারণ সে জানে, যত লাল বলের ক্রিকেট খেলবে, ততই তার বোলিং আরও উন্নত হবে।”
আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আগামী মাসের ২ টেস্টের সিরিজে রিশাদকে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ দলে।