ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুরে জামায়াত বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইউনিয়নের আল-আমিন মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ফাজিলপুর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরমান হোসেন, সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের ১ নং ওয়ার্ড সভাপতি নাজমুল হাসান, ফাজিলপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি সোহরাব হাসান, ৯ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি জিয়াউর রহমান, ইউনিয়ন শিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক সারাফাতুল্লাহ।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ফাজিলপুর ইউনিয়নে আল-আমিন মার্কেট সংলগ্ন একটি বাড়িতে মহিলা জামায়াতের তালিম কর্মসূচিস্থলে যান সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য কামরুলসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। সেখানে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জামায়াত এবং বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা, হাতাহাতি ও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে উভয়পক্ষ স্থানীয়ভাবে সে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় জড়িত ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন ও সভাপতি মীর সবুজকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা আটক করেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ ঘটনায় আহতদের দেখতে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে যান জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুফতি আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি ও যুবদলের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। মহিলা জামায়াতের অনুষ্ঠান বন্ধ করার পরিকল্পনায় ব্যর্থ হওয়ায় তারা পরবর্তীতে বাজারে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে।
জেলা যুবদলের আহবায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার বলেন, জামায়াতের মহিলারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মের নামে মিথ্যে তথ্য ছড়াচ্ছে। এতে আমাদের এক নেতা সেখানে গিয়ে তাদের এসব কর্মকান্ড বন্ধ করতে বললে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের দলীয় আনোয়ার আজিম, হাসান, দুলাল, কিরণ, কামরুলসহ ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, সেখানে যে ঝামেলা হয় তা উভয়পক্ষ বসে মীমাংসা করে।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, মহিলা জামায়াতের একটি কর্মসূচিকে ঘিরে দুইপক্ষের কথা-কাটাকাটির বিষয়ে শুনেছি। পরবর্তী তারা স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সমাধান করেছে বলেও জেনেছি। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি।