পাকিস্তান ক্রিকেট দলে ফের বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ওয়ানডে দলের অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। বাবর আজমের জায়গায় মাত্র এক বছর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে রিজওয়ানকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। তাকে সরানোয় পাকিস্তানের ক্রিকেটে চলছে আলোচনার ঝড়।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ এই সিদ্ধান্তের জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন দলের প্রধান কোচ মাইক হেসনকে। এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেছেন, ‘শুধু ফিলিস্তিনের পতাকা তুলেছিল বলেই তাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো? এখন মনে হচ্ছে এমন এক মানসিকতা তৈরি হয়েছে যে, একটি ইসলামি দেশে একজন অনইসলামিক (অমুসলিম) অধিনায়ক থাকা উচিত!’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সিদ্ধান্তের পেছনে মাইক হেসন আছে, তাই না? তিনি এমন সংস্কৃতি পছন্দ করেন না যেখানে ধর্মীয় চর্চা থাকে। তারা এটা বুঝতে পারছে না। তার সঙ্গে আরও পাঁচ-ছয়জনের একটি দল আছে—তারা সবাই মিলে ড্রেসিংরুম থেকে এই সংস্কৃতি মুছে ফেলতে চায়। অথচ ইনজামাম-উল-হক, সাঈদ আনোয়ার কিংবা সাকলাইন মুশতাকের সময়েও আমরা এসব বিষয় নিয়ে কখনও মাথা ঘামাইনি।’
চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএলে) মুলতান সুলতানস-এর অধিনায়ক রিজওয়ান ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ‘প্রতিটি ছক্কা ও উইকেটের জন্য ফিলিস্তিনি তহবিলে ১ লাখ পাকিস্তানি রুপি অনুদান দেওয়া হবে।’ এর আগে ২০২৩ সালে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে জয়ের পর তিনি সেই জয় উৎসর্গ করেছিলেন ‘গাজায় থাকা ভাই-বোনদের প্রতি।’
অবশ্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) রিজওয়ানের অপসারণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি। এক বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, নির্বাচক কমিটি ও হোয়াইট-বল কোচ মাইক হেসনের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, রিজওয়ানের অপসারণে কেবল হেসন নয়, বোর্ডের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাও সমর্থন জানিয়েছেন।