৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাগীব আসহাব বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় উপস্থাপন করেছেন প্রজেক্ট ‘মিসাইল নলিফায়ার-৭’। এটি কোনো ব্যবস্থা বা প্রযুক্তিকে বোঝায় যা ক্ষেপণাস্ত্রকে নিষ্ক্রিয় বা নিরুৎসাহিত করে, অর্থাৎ সেই ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভেদ করার আগেই তা ভাঙা, বিভ্রান্ত করা বা কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। এটি আমাদের দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য প্রয়োজন।
রাগীব আসহাব জানায়, এটির মাধ্যমে যে কোনও ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে সনাক্ত ও ট্র্যাক করা যায়। রাডার, ইনফ্রা-রেড সেন্সর বা অন্যান্য পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে আক্রমণকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি খুঁজে বের করা হয় এবং তার গতি ও পথে নজর রাখা হয়। কমান্ড ও কন্ট্রোলের (নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত) মাধ্যমে সনাক্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেমন ওই ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করতে হবে কি না, কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে ইত্যাদি।
অন্যদিকে, ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নামিরাহ আয়াত বিন্দু বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান মেলায় উপস্থাপন করেছেন ‘রেইন ডিটেকটর’ নামের প্রজেক্ট। এটি বৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই সংকেত দিবে সম্ভাব্য বৃষ্টির সময় সম্পর্কে। এটিকে উন্নত মানের এবং স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত করলে এটি আরও অত্যাধুনিক হয়ে উঠবে, যা দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বৃষ্টি কখন শুরু হবে বা কত সময়ের মধ্যে হবে। এতে মানুষ উপকৃত হবে এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করতে পারবে।
এমন ১১৫টি বিজ্ঞান প্রজেক্ট নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বগুড়া বীট মডেল স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিটি প্রজেক্ট ঘুরে দেখেন। এদিন সকাল ১১টায় বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ প্রকৌশলী সাহাবুদ্দীন সৈকতের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু ও সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ। এছাড়াও বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক মোহন আখন্দ।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা প্রথম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি ১১৫টি বিজ্ঞান প্রজেক্ট ঘুরে দেখেন। মেলায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশবিজ্ঞানসহ নানা বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীরা চমৎকার সব প্রজেক্ট উপস্থাপন করেন। অনেক প্রজেক্টে দেখা যায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য সম্পদ, ট্রাফিক লাইন, ভূমিকম্প অ্যালার্ম, দূষিত ও দূষণমুক্ত অ্যালার্ম, বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন ধারণা, পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র, রোবটিক্স, সৌরশক্তি চালিত মডেল ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন।
প্রধান অতিথি জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। সৃজনশীল শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আয়োজন করা প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ প্রকৌশলী সাহাবুদ্দীন সৈকত বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জনের জন্যই আমাদের এ আয়োজন। আমরা চাই তারা ভবিষ্যতে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রযাত্রায় অবদান রাখুক।
বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আমাদের স্বনির্ভরতা অর্জন করতে হবে। আজ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান প্রজেক্টগুলো দেখাচ্ছে, সেই দিন আর বেশি দূরে নয়।