মানবজাতির ইতিহাসে মুসা (আ.)-এর জীবন নানা বিস্ময়ে ভরপুর। তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই রয়েছে ইমান, সাহস ও তাওয়াক্কুলের অনন্য দৃষ্টান্ত। সুরা তাহার ২৪ থেকে ৩৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে তার নবুয়তের সূচনাকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে মহান আল্লাহ তাকে ফেরাউনের কাছে যেতে নির্দেশ দেন। এরপর মুসা (আ.) নিজের অক্ষমতা অনুভব করে মহান রবের কাছে দোয়া করেন তার মুখের জড়তা দূর এবং কাজ সহজ করার জন্য।
মুসা (সা.) যখন নবুয়ত ও রিসালাতের দায়িত্ব লাভ করেন, তখন তিনি নিজ সত্তা ও শক্তির ওপর ভরসা ত্যাগ করে স্বয়ং আল্লাহরই দারস্থ হন। কারণ, তারই সাহায্যে এই মহান পদের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহ তাকে বলেন, ‘ফেরাউনের কাছে যাও, সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে।’ (সুরা তাহা ২৪) এই নির্দেশ শুনে মুসা (আ.) কিছুটা বিচলিত হন। ফেরাউন ছিল অত্যাচারী, অহংকারী ও নিজেকে খোদা দাবি করা শাসক। তার মুখোমুখি হওয়া সহজ ছিল না। তখন মুসা (আ.) আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন, ‘রব্বিশ রহলি সদরি, ওয়া এসসিরলি আমরি, ওহলুল উকদাতাম মিল্লিছানি, এফকাহু কওলি।’ অর্থাৎ হে আমার প্রভু, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন, আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।’ (সুরা তাহা ২৫-২৮)
এই দোয়ার মধ্য দিয়ে মুসা (আ.) তার মানবীয় দুর্বলতা প্রকাশ করেন। তিনি জানতেন, দাওয়াতের কাজে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো কথা। কিন্তু তিনি শৈশবে একবার জ¦লন্ত অঙ্গার মুখে নেওয়ার কারণে তার কথায় সামান্য জড়তা এসেছিল। ফেরাউনের দরবারে গিয়ে স্পষ্টভাবে আল্লাহর বাণী পেশ করতে হলে সেই জড়তা দূর হওয়া প্রয়োজন। তাই তিনি দোয়া করলেন, যেন আল্লাহ তার মুখের জড়তা দূর করেন এবং কথাগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। তাফসিরে ইবনে কাসিরে এসেছে, এ দোয়ার পর মুসা (আ.)-এর মুখের জড়তা এতটা দূর হয় যে, তার কথা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
লেখক : ইমাম ও মাদ্রাসাশিক্ষক