শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তারা সহজেই নানা সংক্রমণে আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে টাইফয়েড এমন এক রোগ, যা একবার হলে শিশুর শরীরকে দুর্বল করে ফেলে, আবার অনেক সময় প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই টাইফয়েড টিকা নেওয়া শিশুর জন্য শুধু প্রয়োজন নয়— এটা একেবারে অপরিহার্য।
টাইফয়েডের জীবাণু স্যালমোনেলা টাইফি সাধারণত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষায় এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। জ্বর, মাথাব্যথা, পেটব্যথা, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা— এসবই টাইফয়েডের সাধারণ লক্ষণ। চিকিৎসা না হলে রোগ জটিল আকার নিতে পারে, এমনকি অন্ত্র ফেটে রক্তক্ষরণও হতে পারে।
চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন টাইফয়েড টিকা নেওয়া এত জরুরি—
১. সংক্রমণ থেকে নিশ্চিত সুরক্ষা দেয়
টাইফয়েড এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়ায়। টিকা নেওয়া শিশুর শরীরে প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা জীবাণুকে কার্যকরভাবে প্রতিহত করে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
২. জটিলতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমায়
টাইফয়েড হলে শিশুদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি জ্বর ও ডিহাইড্রেশনে ভোগে। টিকা থাকলে এই জটিলতা দেখা দেয় না, ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনও পড়ে না।
৩. অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ভয় কমায়
এখন অনেক টাইফয়েড জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। অর্থাৎ ওষুধে কাজ করছে না। এই অবস্থায় টিকা নেওয়া শিশুরাই সবচেয়ে সুরক্ষিত, কারণ তাদের সংক্রমণের আশঙ্কাই থাকে না।
৪. সামাজিক সুরক্ষাও তৈরি হয়
যখন একটি সমাজে অধিকাংশ শিশুই টাইফয়েড টিকা নেয়, তখন ওই জীবাণুর বিস্তারও থেমে যায়। এতে শুধু টিকা নেওয়া নয়, টিকা না নেওয়া শিশুরাও পরোক্ষভাবে সুরক্ষিত থাকে। একে বলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’।
৫. সহজ, নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা
টাইফয়েড টিকা সাধারণত একবার নিলেই দীর্ঘ সময়ের জন্য সুরক্ষা দেয়। আধুনিক টিকাগুলো নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই সামান্য— যেমন হালকা জ্বর বা ইনজেকশন দেওয়ার জায়গায় সামান্য ব্যথা। কিন্তু এর বিনিময়ে শিশুটি পায় বছরের পর বছর নিশ্চিন্ত সুরক্ষা।
কখন টিকা দেওয়া উচিত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, ছয় মাস বয়সের পর থেকেই টাইফয়েড টিকা দেওয়া যায়। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতাতেও এখন এই টিকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সে শিশুকে টিকা দিতে হবে।
শেষ কথা
একটি টিকার অভাবে যদি শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ে, সেটা কতটা বেদনাদায়ক— তা কোনো অভিভাবকই চান না। টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা নেওয়া মানে কেবল নিজের সন্তানের নয়, পুরো সমাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কারণ, একবার ইনজেকশন— আজীবনের নিশ্চিন্ত।