সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের তালিকা ঠিক নয়

ভারতের সঙ্গে কয়েকটি চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি ফেসবুকে তার যাচাইকৃত পাতায় একটি তালিকাসহ এমন একটি পোস্ট দেন। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, তালিকাটি সঠিক নয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যে তালিকা এসেছে, এটা সঠিক নয়। এর অধিকাংশের অস্তিত্ব নেই।’

তৌহিদ হোসেন বলেন, যে তালিকা এসেছে, সেটা কোনো একজন প্রচার করেছেন। আসিফ মাহমুদের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত একজন উপদেষ্টা নিজের একটি মন্তব্যসহ শেয়ার করেছেন। হয়তো এটা উনি না করলেও পারতেন।’ আসিফ মাহমুদের মন্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে তৌহিদ হোসেন অস্বীকৃতি জানান।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ভারত থেকে টাগবোট কেনার বিষয়ে একটিমাত্র চুক্তি দুই দেশের সম্মতিতে অনেক আগে বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় ঋণচুক্তির আওতায় যে প্রকল্পগুলোর কথা বলা আছে, তাসহ কয়েকটি চুক্তি বাতিলের বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।

আসিফ মাহমুদের দেওয়া তালিকায় ভুল থাকার উদাহরণ দিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ, অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ ও আশুগঞ্জ-আগরতলা করিডর, এমন নামে কিছু নেই। ফেনী নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নামে কোনো প্রকল্প নেই। ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম শহরে পানি সরবরাহের জন্য ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহারের জন্য আগের সরকারের সময় সই হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক আছে। এটি এখনো বাতিল হয়নি।

কুশিয়ারা নদীর পানি প্রত্যাহারের বিষয়ে যে প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে, এ নামে প্রকল্প নেই। আছে দুই দেশের সীমান্তবর্তী কুশিয়ারা নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের বিষয়ে ২০২২ সালে সই হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক। এই স্মারক এখনো স্থগিত হয়নি।

বন্দর ব্যবহারসংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি নামে কোনো চুক্তি নেই। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে ভারতের এক অংশ থেকে অন্য অংশে পণ্য পরিবহনের বিষয়ে একটি চুক্তি আছে। এটা বাতিল হয়নি।

ফারাক্কা বাঁধ সম্পর্কিত প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতার জন্য কোনো প্রকল্প নেই। সিলেট-শিলচর সংযোগ প্রকল্প নেই। পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পের নামেও কোনো চুক্তি হয়নি।

আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা বা পুনর্বিন্যস্ত করার জন্য আলোচনা চলছে। কোনো চুক্তি হয়ে গেছে বা বাতিল হয়েছে এমন কিছু নয়।

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে। এ চুক্তিটি নবায়নের বিষয়ে যোগাযোগ হচ্ছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করছে।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এটার ওপর কাজ চলছে, খুব যে অগ্রগতি হচ্ছে; তা নয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতীয় ঋণচুক্তির আওতায় অনেক ক্ষেত্রে কেনাকাটার যেসব শর্তাবলি আছে, তা বাস্তবসম্মত মনে হয় না। অনেক ক্ষেত্রে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটা বাংলাদেশের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য নয়।

তৌহিদ হোসেন জানান, ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি তদন্তের জন্য বাংলাদেশ অনুরোধ করে যে চিঠি দিয়েছে, ভারত এখনো তার উত্তর দেয়নি। যাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে, তারা চোরাকারবারি ছিল বলে ভারতের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার সেই ‘বয়ান’ গ্রহণ নাও করতে পারে। ভারতীয় গ্রামবাসীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে যদি পিটিয়ে মেরেও থাকে, ভারতসহ কোনো দেশের আইনে তা সমর্থনযোগ্য নয়। এ কারণে বাংলাদেশ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চায়।