মায়ামিতে বার্সা-ভিয়ারিয়াল ম্যাচ বাতিলের কারণ প্রতিবাদ নাকি অর্থসংকট?

শেষ পর্যন্ত বাতিল হলো ইন্টার মায়ামির স্টেডিয়ামে হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ভিয়ারিয়াল ও বার্সেলোনার মধ্যকার লা লিগার ম্যাচটি। আগামী ২০ ডিসেম্বর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যা হতো স্পেনের বাইরে প্রথম লা লিগা ম্যাচ। তবে অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে ম্যাচটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে লা লিগা কর্তৃপক্ষ। আবার শোনা যাচ্ছে আর্থিক সংকটের কথাও।

গত আগস্টে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) ম্যাচটি মায়ামিতে সরিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দিলেও, স্পেনে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমনকি প্রতিবাদস্বরূপ দেশটির ফুটবলাররা লা লিগার ম্যাচ শুরুর প্রথম ১৫ সেকেন্ড কোনো নাড়াচড়া না করে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

প্রোমোটার প্রতিষ্ঠান রিলেভেন্ট জানিয়েছে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় না থাকায় ম্যাচটি আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। লা লিগা এক বিবৃতিতে বলেছে, স্পেনের ভেতরের ‘অনিশ্চয়তা’ এবং ‘সমন্বয়ের জটিলতা’র কারণেই এই সিদ্ধান্ত। ফলে ম্যাচটি এখন ভিয়ারিয়ালের ঘরের মাঠ এস্তাদিও দে লা সেরামিকায় অনুষ্ঠিত হবে।

লা লিগা জানিয়েছে, তারা সিদ্ধান্তে ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করছে এবং এটিকে স্প্যানিশ ফুটবলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য ‘একটি বড় ধাক্কা’ বলে মন্তব্য করেছে। সংস্থাটি বিশ্বাস করে, স্পেনের বাইরে অফিসিয়াল ম্যাচ আয়োজন ‘বিশ্বব্যাপী লা লিগার বিস্তার ও আয় বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হতে পারত।

বার্সেলোনা ক্লাব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সিদ্ধান্তকে ‘সম্মান জানিয়েছে ও মেনে নিচ্ছে। তবে এটিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রে লা লিগার বাজার দ্রুত বিকাশের সম্ভাবনা নষ্ট হওয়া হিসেবেও দেখছে। এদিকে স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্লেষক গুইলেম বালাগে বলছেন অন্য কথা, ‘যতদিন হাভিয়ের তেবাস লা লিগার সভাপতি থাকবেন, তিনি একদিন না একদিন বিদেশে ম্যাচ আয়োজন করবেনই।’

স্পেনের বাইরে ইউরোপের কোনো শীর্ষ লিগ ম্যাচ এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে গত কয়েক মৌসুমে স্প্যানিশ সুপার কাপ সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বালাগে মনে করেন, এই ম্যাচ বাতিলের মূল কারণ আর্থিক অনিশ্চয়তা। তার ভাষায়, ‘ভিয়ারিয়াল বলছিল, তারা কোনো টাকা পাচ্ছে না; বার্সেলোনা বলছিল, বিমান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই পাবে! সবকিছুই ছিল বিভ্রান্তিকর।’