ফুটবল ইতিহাসের দুই আর্জেন্টাইন মহাতারকা ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি শেষবার মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০১৭ সালের ফিফা দ্য বেস্ট অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে, লন্ডনের লন্ডন প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। সেটিই ছিল তাদের শেষ দেখা, শেষ কথোপকথন। তাদের সেই আলাপচারিতায় ফুটে উঠেছিল একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, স্নেহ আর আবেগ।
সেই রাতে ফিফা দ্য বেস্ট অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু আর্জেন্টিনার মানুষের চোখ ছিল মেসি-ম্যারাডোনার সাক্ষাত ঘিরে। অনুষ্ঠান শুরুর আগে হঠাৎই দেখা হয় তাদের। ডিয়েগো এগিয়ে এসে মেসিকে বলেছিলেন, ‘তুমি জান, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি। চারপাশের বাজে কথাগুলোর দিকে মন দিও না।’ মেসিও হাসিমুখে জবাব দেন, ‘সব ঠিক আছে, ডিয়েগো।’
দুজনের আলিঙ্গনে যেন মিলেমিশে গিয়েছিল প্রজন্মের ব্যবধানও। ম্যারাডোনা সেই সময় বলেছিলেন, তিনি শুধু মেসিকে শুভকামনা জানাতে চেয়েছিলেন— বিশেষ করে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য। যদিও সেই বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার জন্য হতাশায় শেষ হয়। তবে এটুকু আলাপচারিতায় মন ভরেনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মহাতারকার। তাই অনুষ্ঠানের পর মেসি যখন গাড়িতে ওঠেন, ম্যারাডোনা প্রায় দৌড়ে গিয়ে তাঁর কাছে পৌঁছান।
সিগার হাতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ফুটবল ঈশ্বর তার সাথে কথা বলেন। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানান— ‘আমি ওকে বলেছি, আমি ওকে ভালোবাসি, হৃদয়ে রাখব। দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপে যখন আমরা হেরেছিলাম, ওর মতো আমিও কেঁদেছিলাম।’ এই ছিল তাঁদের শেষ সরাসরি কথা। এরপর ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনা চলে যান না ফেরার দেশে।
ম্যারাডোনার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে বিশ্ব ফুটবল। তাঁর প্রতি সম্মান জানাতে ওসাসুনার বিপক্ষে একটি ম্যাচে গোল করার পর মেসি বার্সেলোনার জার্সি খুলে পরেছিলেন নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের ১০ নম্বর জার্সি। ক্লাবটির হয়ে এই জার্সিই পরতেন ম্যারাডোনা। পরে এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘আমি আন্তোনেলার (স্ত্রী) সঙ্গে রাতে কথা বলছিলাম। ভাবছিলাম, আমাকে কিছু একটা করতে হবে ডিয়েগোর জন্য। আলমারিতে হঠাৎ দেখলাম, নিউওয়েলসের ১০ নম্বর জার্সিটা আছে— তখনই ঠিক করলাম, এটাই হবে আমার শ্রদ্ধা।’
ম্যারাডোনা একবার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ‘মেসি একদিন বিশ্বকাপ জিতবে, তবে তখন আমি থাকব না।’ তাঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনাকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন। যেন আকাশের ওপার থেকে ডিয়েগোই দেখছিলেন তাঁর উত্তরসূরিকে। মেসি আর ম্যারাডোনার সেই শেষ সাক্ষাৎ তাই কেবল ইতিহাস নয়, আবেগের এক চিরন্তন অধ্যায়।
কাবাডিতেও হাত মেলানো বন্ধ; পাকিস্তানকে দাপটে হারাল ভারত
আজকের প্রজন্ম সবকিছু এই মুহূর্তে পেতে চায়: শচীন টেন্ডুলকার