দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া একাধিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যেগুলোক স্বল্পপাল্লার বলে মনে হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনের এক সপ্তাহ আগে গতকাল বুধবার এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল দেশটি। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শীর্ষ নেতাদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এগুলো স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল ভোরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের নিকটবর্তী একটি এলাকা থেকে উত্তর-পূর্ব দিক মুখে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়ার আগেই তারা এ-সংক্রান্ত গতিবিধি শনাক্ত করেছিল। ছোড়ার পর তার মাইল) উড়ে গিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার এক সামরিক কর্মকর্তা আলাদাভাবে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়ার ভেতরে কোথাও পড়েছে বলে মনে হয়েছে।
বাহিনীটি জানিয়েছে, তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে শেয়ার করছে। এ ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর এক জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করে। সামরিক কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিতি ছিলেন। বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্টকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়টি জানানো হয়।
জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে জাপানের নিরাপত্তার ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
এর আগে ৮ মে শেষবার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল উত্তর কোরিয়া। সেগুলোও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। সেগুলো ছোড়া হয়েছিল তাদের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূল থেকে।
উত্তর কোরিয়া একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তারা এক দশক ধরে জাতিসংঘের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে উন্নততর করে চলছে।