‘আমার অবস্থান মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে’ – জুলাই বিপ্লব নিয়ে সাকিব

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় দেশে ছিলেন না সাকিব আল হাসান। দেশে যখন হাসিনা সরকার বিরোধী বিক্ষোভে মানুষের প্রাণহানি ঘটছিল, তখন তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফুরফুরে মেজাজে পারিবারিক ছবিতে দেখা গেছে। এতে তিনি ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন এবং দেশে ফিরতে না পারার পেছনে সেটাও ছিল সবচেয়ে বড় কারণ। প্রায় দেড় বছর পর সেই সাকিব কী ভাবছেন?

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে মাগুরা থেকে আওয়ামী লীগের ব্যানারে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন সাকিব। সরকার পতনের পর দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকেই বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকেই আছেন কারাগারে। দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর সাকিবকে গত কয়েকমাস ধরে রাজনৈতিক বিষয়াবলীতে সক্রিয় হতে দেখা গেছে। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্ট কিংবা হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতেও দেখা গেছে।

জুলাই আন্দোলনের মাঝে সাকিবের সেই পারিবারিক ছবি ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। এমনকী সেই বছর কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগে প্রবাসী দর্শকরা তাকে গালাগাল করেছিলেন। অনেকেই বলেছিলেন, ভক্তদের ভালোবাসা চিরতরে হারিয়েছেন সাকিব। কিন্তু কিছুদিন আগে আটলান্টায় ফেডারেশন অফ বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস অফ নর্থ আমেরিকার সম্মেলনে দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। অনুষ্ঠানটিতে সাকিবের স্বাক্ষরিত জার্সি এবং টুপি চখের পলকে শেষ হয়ে যায়। শত শত বাংলাদেশি প্রবাসী লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে সাকিবের সাক্ষরিত জার্সি কেনেন।

কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মাঝে সাকিব কেন নিরব থাকলেন? কেন ওইরকম রক্তপাতের মাঝে পারিবারিক আনন্দের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় এলো? ‘ক্রিকবাজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয়, সেটা এমন একটা মুহূর্ত ছিল যা আমার বিরুদ্ধে গিয়েছিল। হয়তো তারা অন্য কিছু আশা করছিল, এবং আমি তা করার মতো অবস্থায় ছিলাম না কিংবা আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন ছিলাম না।’

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই জানিয়ে সাকিব আরও বলেন, ‘এটা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। কারণ, আমি তখন দেশ থেকে অনেক দূরে ছিলাম। এবং আমি মনে করি, এটাই একমাত্র সময় যখন তারা (ভক্ত-সমর্থকেরা) আমার বিরুদ্ধে গিয়েছিল। আমি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্য্‌ই বুঝতে পারছি, সেটাকে আমি সম্মানও করি। তবে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। আমার মনে হয়, মানুষ এখন এটি আরও বেশি করে বুঝতে শুরু করেছে।’