তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭৯ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের প্রায় ১৯ মাস পর ২০২৫-এর অক্টোবরে এসে আরেকটা ওয়ানডে সিরিজ জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। মাঝে আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ, হেরেছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ নিয়ে সব (২) ম্যাচেই।
প্রথম ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতেছিল সহজেই, বলা যায় একতরফা ম্যাচেই। দ্বিতীয় ম্যাচ হয় টাই, সুপার ওভারে গিয়ে ম্যাচটা হেরে যায় বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা সামলে সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি রাখে বড় অবদান। অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডাররাও যেন মেতে উঠেছিলেন ক্যাচ ফেলার প্রতিযোগিতায়! সাইফ হাসানের ক্যাচও পড়েছে একবার, কঠিন ক্যাচটা কেসি কার্টি নিতে পারলে আরও আগে আউট হতে পারতেন সৌম্যও। সেসব হয়নি, ২৫ ওভারে ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি হয়েছে। তবে তিন ওভারের ভেতর সৌম্য ও সাইফ দুজনেই বিদায় নিলে রান তোলার গতিটা সøথ হয়ে পড়ে। তাওহীদ হৃদয় ২৮ আর নাজমুল হোসেন শান্ত ৪৪ রানে আউট হওয়ার পর আর কোনো ব্যাটসম্যানই রানের দেখা পাননি। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৬, রিশাদ হোসেন ৩, আর নাসুম আহমেদ করেন ১ রান। নুরুল হাসান সোহান আর মেহেদী হাসান মিরাজ নেমেছেন নিজেদের স্বাভাবিক ব্যাটিং অর্ডারের একটু পরে, একজন ১৬ আর অন্যজন ১৭ রান করায় দলের রানটা হয় ৮ উইকেটে ২৯৬।
২৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা যেন ভুলোমনা নাবিক। বাংলাদেশের স্পিনারদের বলে খাবি খেলেন মাঝের ২২ গজে। নাসুম, তানভীর, রিশাদ আর মিরাজ এই চতুষ্টয় মিলেই মাত্র ৩০.১ ওভারে ১১৭ রানে থামিয়ে দিয়েছেন ক্যারিবীয়দের। ৬ ওভারে ১১ রানে ৩ উইকেট নাসুমের, রিশাদের শিকার ৫৪ রানে ৩ উইকেট। জোড়া শিকার মিরাজ ও তানভীরের।
১৭৯ রানের জয় রানের হিসাবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় জয়। এই বড় জয়েই শেষ হলো ২০২৫ সালে ওয়ানডের খাতা। এই জয়ে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরে ১০ নম্বরেই থাকছে বাংলাদেশ। রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে বাংলাদেশের ৭৬, উইন্ডিজের কমে হয়েছে ৭৯।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, ‘জয়ে ফেরাটা খুব দরকারি ছিল। আমরা খারাপ সময় পার করেছি, তবে সম্ভবত এই সিরিজই আমাদের জন্য মোড় ঘুরিয়ে দেবে এবং আমরা ওয়ানডে ফরম্যাটে আরও ধারাবাহিক হয়ে উঠব। আশা করি আগামী বছর আরও ম্যাচ আসছে, আর ছেলেরা বুঝতে পারছে আমরা কী করতে চাই।’
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আর ওয়ানডে নেই বাংলাদেশের। এরপর দেশের মাটিতে পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে সিরিজে আছে।