যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হয়েছে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস। সম্প্রতি কায়রোতে মিসরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে গোষ্ঠীটির নেতারা। গাজায় যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ কার্যকর ও টেকসই করতে বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র, (সিভিল-মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার) নামের একটি সংস্থা গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সংস্থার বেসামরিক প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত স্টিভেন ফ্যাগিনকে। এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের দায়ে ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
গত শুক্রবার নিজেদের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা বিবৃতিতে এ প্রসঙ্গে হামাসের হাইকমান্ড বলেছে, আমরা গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট সরকারের কাছে হস্তান্তরে রাজি আছি। আমরা আশা করছি,প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট সরকার গাজার প্রশাসন ভালোভাবে পরিচালনা করবে, উপত্যকার বাসিন্দা ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদান করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রাখবে। গাজায় যুদ্ধের অবসানের জন্য গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০ দফা প্রস্তাব সংবলিত নতুন একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা পেশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাস উভয়ে সেই পরিকল্পনায় সম্মতি জানানোর পর ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় গাজায়।
ট্রাম্পের ২০ পয়েন্টের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা অনুসারে, যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মি এবং ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং গাজায় ত্রাণের প্রবেশ বাধামুক্ত করা হবে এবং যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ের শেষে গাজায় একটি নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক ও অসামরিক সরকার গঠন করা হবে। এই সরকারকেই ট্রাম্পের প্রস্তাবে বলা হয়েছে ‘টেকনোক্র্যাট’ সরকার। এর আগে হামাসের নেতারা বলেছিলেন, গাজায় প্রস্তাবিত টেকনোক্র্যাট সরকারের অংশ হতে চায় গোষ্ঠীটি এবং সরকারের নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বে থাকতে চায়। বৃহস্পতিবার মিসরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই অবস্থান থেকে সরে এলো গোষ্ঠীটি। মিসরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফাতাহ-এর নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে হামাস। সেই বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির হাইকমান্ড বলেছে, বর্তমানে তাদের লক্ষ্য স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন এবং এই লক্ষ্য অর্জনে ফিলিস্তিনি সক্রিয় সব রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চায় হামাস।
গাজায় নতুন বেসামরিক প্রধান নিয়োগ হিসেবে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত স্টিভেন ফ্যাগিনকে নিয়োগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালে ফ্যাগিনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ইয়েমেনে নিয়োগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন দায়িত্ব লাভের আগ পর্যন্ত এই পদেই ছিলেন তিনি। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সিভিল-মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার নামের একটি সংস্থা গঠন করা হয়েছে। সেই সংস্থার বেসামরিক প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রদূত স্টিভেন ফ্যাগিনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ ইসরায়েলের কিরইয়াত গাত শহরে ‘সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কেন্দ্র’-এর সদর দপ্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব থেকে কিরইয়াত গাত ৫৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইতিমধ্যে সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কেন্দ্রের সদর দপ্তর ঘুরে দেখেছেন।
এদিকে, ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। গাজায় যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের দায়ে দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চান তিনি। এরদোয়ান জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলছে। যুদ্ধবিরতি অক্ষুণœ রাখতে তুরস্ক কাজ করছে। ইসরায়েল যেন যুদ্ধবিরতি মেনে চলে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ করে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান এরদোয়ান।