একটি দলকে ক্ষমতা দিতে চাইছে সরকার!

জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন প্রস্তাব থেকে সরে এলে মনে হবে সরকার লন্ডন বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বিএনপির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা এ কথা বলেন। ওইদিন সকাল ১০টার পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক শুরু হয়, যা শেষ হয় দুপুর ১টার পর।

বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য) মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এনসিপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন, খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা। আরপিও সংশোধন প্রস্তাবকে এনসিপি ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দলটির নেতারা উল্লেখ করেন, সংশোধনীর পর বিএনপি তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে এটি বাতিলের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত দেওয়ার কথা বলেছে। তবে আইন উপদেষ্টা এ প্রক্রিয়ার অংশ নন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারির বিষয়ে আলোচনায় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আদেশের বিষয়বস্তু, টেক্সট ও কার্যকারিতা পরিষ্কার না হলে গণভোট একা সংস্কার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারবে না। আমরা সরকারের কাছ থেকে পূর্ণ আশ্বাস পাওয়ার পরই গণভোট ও স্বাক্ষরের বিষয়ে এগোতে চাই।’

আখতার হোসেন বলেন, ‘আরপিও সংশোধন বাতিলের জন্য আইন উপদেষ্টার কাছে দরখাস্ত দেওয়ার প্রচেষ্টা থেকে মনে হয়, সরকার কিছু উপদেষ্টার সঙ্গে নির্দিষ্ট দলের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা আমরা অনুচিত মনে করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কোনো দলের চাপে সরকার এই সংশোধনী থেকে সরে আসে, তাহলে মনে হবে তারা লন্ডন বৈঠকের ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা হস্তান্তরের দিকে এগোচ্ছে। এটি জাতির জন্য সুস্থ প্রক্রিয়া হতে পারে না।’

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু রাজনৈতিক দলিল নয়, জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের প্রতিফলন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এই সনদ জারি হবে এবং গণভোটের মাধ্যমে আগামী সংসদকে ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’ প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর সংসদ জুলাই সনদের সংস্কারগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৬ সালে সংস্কার করা সংবিধান ঘোষণা করবে।’

গণভোট প্রসঙ্গে আখতার বলেন, ‘গণভোটের আগে আদেশের বিষয়বস্তু জনগণের সামনে পরিষ্কার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্ট ধারণা ছাড়া গণভোট সংস্কার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারবে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি জুলাই সনদের মূল অর্জনগুলো ‘কাগুজে দলিলে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে। সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি, গণভোট এবং সংসদকে জনগণের ক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে সংস্কার করা সংবিধান প্রণয়নের বিষয়ে ঐকমত্য ছিল। তবে আইনি ভিত্তি কীভাবে ও কখন থেকে কার্যকর হবে, তা এখনো জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়।

এনসিপি নেতারা সতর্ক করে বলেন, ‘জুলাই সনদ যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।’