ফেনী সীমান্তে গত ২ বছরে ১৪৬৪ কোটি টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি। ২০২৪ সালে সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৭৫৪ কোটি ১৫ লাখ পাঁচ হাজার ৭৮২ টাকার মালামাল ও ২০২৫ সালে ৭০৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫২ হাজার ২৬৪ টাকা মূল্যের ভারতীয় মালামাল জব্দ করেন। এ সময় ৭০৯ জন চোরাচালান কারবারিকে আটক করা হয়।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ী, পোশাক ও গরু জব্দ করেছে বিজিবি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়ন এ অভিযান পরিচালনা করে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে ফেনী জায়লস্কর ৪ বিজিবি সদর দপ্তরে এক প্রেস বিফিং এর মাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোশারফ হোসেন বলেন, শুক্রবার ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা ও চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ থানার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ব্যাটালিয়ন সদর ও বিওপি চোরাচালান প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় শাড়ী ও তৈরি পোশাকসহ ভারতীয় গরু আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত চোরাচালান মালামালের আনুমানিক সিজারমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ ৫ হাজার ১২৫ টাকা।
লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিজিবি দীর্ঘদিন যাবৎ সুনামের সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান, মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতীয় সম্পদ সুরক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছে। ফেনী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১২০ কিলোমিটার এলাকা বিস্তৃত। এ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যমান সীমান্তে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ১৭টি বিওপি চোরাচালান প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে। চলতি মাসে ২ কোটি ৯৯ লাখ ১৭ হাজার ১৫৫ টাকার মালামাল জব্দ করে।
বিজিবি সূত্রে আরও জানা যায়, এর আগে বিজিবির উত্তর পূর্ব রিজিয়নের অধীন ইউনিটগুলো গত এক বছর ৯ মাসে ৪ হাজার ২০২টি গরু, ১ হাজার ২৮৬টি মহিষ, ২ হাজার ৫৬৯টি মোবাইল, ২ লাখ ৬ হাজার ১৩৯ ঘনফুট পাথর, ২১ হাজার ২৩৫ ঘনফুট বালু, ১১টি বালুর মেশিন, ১১লাখ ৪৬ হাজার ৩১৮ কেজি চিনি, ১ লাখ ৫৩ হাজার ১২৯ কেজি জিরা, ৮২ হাজার ৭১০ পিস শাড়ি, ৭ হাজার ৪১৯টি যানবাহন।
চলতি ২০২৫ সালে সরাইল রিজিয়নের অধীনস্থ ইউনিটসমূহ কর্তৃক পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে মদ ৭৮ হাজার ২৫৪ বোতল, ফেনসিডিল ২৪ হাজার ৭৬৩ বোতল, ইয়াবা ২ লাখ ৮০ হাজার ১৪৪ পিস, বিয়ার ৯ হাজার ৮৬ ক্যান, গাঁজা-১৪ হাজার ৬৪৪ কেজি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে মাদক পাচারে জড়িত বেশ কিছু চোরাচালানীও গ্রেপ্তার করা হয় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২০২৫ সালে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরণের ৯টি অস্ত্র এবং গুলি ৬ রাউন্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ৪ বিজিবির সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান, ৪ বিজির সুবেদার মেজর আবুল কালামসহ প্রমুখ।