২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি কলেজের চেয়ে বেশিরভাগ বেসরকারি কলেজের ফল ভালো। উপজেলার সাতটি কলেজের মধ্যে একমাত্র সরকারি কলেজ কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ ফলের দিক থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩।
সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ৬৫৭ জনের মধ্যে ২২১ জন পাস করেন। পাশের হার ৩৪.০৫।
উপজেলার অন্য কলেজগুলোর মধ্যে সেন্ট মারিস গর্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৮১.২০, কালীগঞ্জ মহিলা কলেজে ৬২.৬৯, সেন্ট নিকোলাস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৯.৬৮, আজমপুর কলেজে ৩৮.১০ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ঢালি উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে পাসের হার ২৪। এ ছাড়া জামালপুর কলেজের ১১৬ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৩৪ জন। পাসের হার ২৯.৫৭ শতাংশ।
কলেজের ফল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মু. মাহমদুল হাসান বলেন, ‘গত বছরের ছাত্র আন্দোলনের পর থেকে ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়ায় ব্যাপক অমনোযোগী। আর অন্য বছরের মতো খাতায় নম্বর বেশি দিয়ে পাস করাতে ওপর থেকে নির্দেশনা ছিল না।’ এ বছর টেস্ট পরীক্ষায় দুই থেকে তিনটি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
মাহমদুল হাসান আরও বলেন, ‘সরকারি কলেজে টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করা ছাত্রছাত্রীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বোর্ড থেকে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে টেস্টে ফেল করা ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়াটা আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা যেসব শিক্ষার্থী ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ২০ নম্বরের বেশি পেয়েছে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। আর যাদের এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ইরেজি ও আইসিটিতে ফেলের সংখ্যাই বেশি।’
সরকারি কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজের অধ্যক্ষ আতাউর রহমান বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার প্রতি অনীহায় এবার ফল এত খারাপ হওয়ার বড় কারণ। আমরা এ বছর টেস্টে তিন বিষয়ে ফেল করা ছাত্রছাত্রীদেরও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছি।’ তিনি দাবি করেন, ‘বোর্ডের কিছু বাধ্যবাধকতা থাকে, সেই বিবেচনায় আমরা ফেল করা ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছি।’
কালীগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মু. নাজমুল ইসলাম বলেন, এ বছর কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে প্রায় ১৫ জন গত বছরের পরীক্ষায় এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থী ছিল। তারা আবার এ বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পড়ালেখায় সম্পৃক্ত না থাকায় এর মধ্যে সব পরীক্ষার্থী এ বছর ফেল করেছে। এ কারণে পরীক্ষায় পাসের হার সন্তোষজনক হয়নি।