শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি দখল করে দেওয়াসহ নানা অনিয়মে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চন্দ্রকোনা বাজারের চৌরাস্তা মোড়ে জমির দখল সংক্রান্ত বিরোধে মৃত মহর উদ্দিনেরর পরিবারের প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে প্রভাষক জয়ন্ত কুমার দেব এ্যাপোলো।
আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আসামীদের জমিতে থাকা স্থাপনা দোকানপাট জোর পূর্বক আইনের অপব্যবহার করে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সিরাজ উদ্দিন জমির দখল বুজিয়ে দেন মামলার বাদী এ্যাপোলোকে। এমন অভিযোগে মৃত মহর উদ্দিনের পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান রাজিব নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় জনগনের সাথে কথা বলে জানা যায় চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সিরাজ উদ্দিন নিজে দাড়িয়ে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোস্তাফিজুর রহমান রাজিবের দোকানঘর ভেঙ্গে নিতে বাধ্য করে জয়ন্ত কুমার দেব এ্যাপোলোকে জমিতে ঘর তুলে দখল নিতে বলেন।
জয়ন্ত কুমার দেব এ্যাপোলোর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আদালতে মামলা করেছি তাই তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের সহযোগীতা নিয়ে জায়গা দখল করেছি। মামলার রায় প্রকাশিত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এ্যাপোলো বলেন, মামলা চলমান আছে।
চার ঘণ্টায় প্রায় ১৮ বার ফোন করার পর একবার ফোন রিসিভ করে চন্দ্রকোনা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমাকে এ্যাপোলো বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছে। আমি যাইনি, নেতারা বসে রাজিবের ঘর ভেঙে এ্যাপোলোকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
নেতাদের মধ্যে শেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সভাপতি মাহমুদুল হক দুলালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি যাইনি পরিবারের অসুস্থতা জনিত কারণে আমি হাসপাতালে রয়েছি, তবে হাসপাতাল থেকে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করব।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে জামালপুর সদর থানার ঢৌহাতলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র রনি মিয়া চন্দ্রকোনা বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে সুজনের (ধান সরিষার) গুদামঘরের সামনে থেকে জোর পূর্বক অপ্পো-এম- ৫৪ মোবাইল ফোন এবং আরটিআর ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে যায়।
ঐদিন উল্লেখিত এলাকায় কোন প্রকার ভ্রাম্যমাণ আদালত বা যৌথবাহিনির অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে জানা যায়। ইনচার্জ সিরাজ উদ্দিন বলেন, সে মোবাইল এবং মোটরসাইকেল রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
তবে সিরাজ উদ্দিনের সোর্স বাজারের মালি, রিনার মাধ্যমে খবর পাঠায় ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মোবাইল এবং মোটরসাইকেল ফাঁড়ি থেকে নিয়ে যেতে।
বিষয়টি নিয়ে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঞায় সাথে কথা হলে তিনি ভুক্তভোগীদেরকে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।