টানা দ্বিতীয় হারে বসুন্ধরা কিংসের স্বপ্ন ফিকে

ওমানের আল সিবের কাছে ৩-২ গোলে হারের পর মঙ্গলবার লেবাননের আল-আনসার এফসি'র কাছে হেরে চ্যালেঞ্জ লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে বসুন্ধরা কিংসের। মঙ্গলবার কুয়েত সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। টানা দুই ম্যাচে হারে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙা হলো না বসুন্ধরার। স্বাগতিক কুয়েত সিটির বিপক্ষে ৩১ অক্টোবর স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা ম্যাচ খেলতে নামবে তারা।

অথচ এ ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে বেশ কিছু গোলের সুযোগ গড়েছিল বসুন্ধরা। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ডরিয়েলটন গোমেজের স্বার্থপরতায় গোল পায়নি তারা। ইমানুয়েল সানডের থ্রু পেয়ে গিয়েছিলেন ডরিয়েলটন। তার সামনে ছিলেন শুধু আল-আনসারের গোলকিপার। বাঁ দিক দিয়ে ফাঁকায় ছিলেন রাকিব হোসেন। বলটা রাকিবকে না বাড়িয়ে নিজেই শট নেন ডরিয়েলটন। যা কিপার রুখে দেন সহজেই। শুরুর ধাক্কা সামলে গুছিয়ে ওঠে আল-আনসার। মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা পাল্টা আক্রমণে গিয়ে বসুন্ধরার রক্ষণের পরীক্ষা নিতে থাকে। ৪৩ মিনিটে গোল পায় লেবানন সেরারা। বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে মোহাম্মদ হেবসের ফ্রি-কিক কঠিণ কোণ থেকে আবুবকর আকুকি হেড করে গোলমুখের জটলায় পাঠিয়েছিলেন। সেটা ফিস্ট করতে গিয়ে নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার ইমানুয়েল আগবাজির সঙ্গে সংঘর্ষে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বল নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন বসুন্ধরা কিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ। 

বিরতি থেকে ফিরে সমতায় ফিরতে পারতো বসুন্ধরা। তবে ৫২ মিনিটে সোহেল রানার ক্রসে ইমানুয়েল সানডের ডানপায়ের জোড়ালো শট রুখে দেন আল আনসার কিপার নাজিহ আসাদ। পরের মুহূর্তেই পেনাল্টি পেয়েছিল আল আনসার। আগবাজি বক্সের ভেতর ফেলে দেন মোহাম্মদ হেবসকে। তবে আলি নেইচের পেনল্টি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন শ্রাবণ।  তবে ৭৪ মিনিটে আগবাজি আবারও বিপদ ডেকে আনেন আকুকিকে বক্সের ভেতর ফেলে দিয়ে। এবার পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন খালফাল্লাহ। 
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে মোহাম্মদ হেবস বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে অসাধারণ প্লেসিংয়ে বসুন্ধরার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।