কমিউনিটি ব্যাংক গুরুত্ব দিচ্ছে ক্যাশলেস লেনদেনে

দেশ রূপান্তর : যুগের প্রয়োজনে প্রায় সব ব্যাংকই তাদের সেবাগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তর করেছে। সত্যিকার অর্থে কতটা ডিজিটাল হলো ব্যাংকিং সেবা?

কিমিয়া সাআদত : কমিউনিটি ব্যাংকের গ্রাহকরা ২০১৯ সাল থেকেই ব্যাংকের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কমিউনিটি ক্যাশের মাধ্যমে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করছেন। এ ছাড়া সব পে-রোল ঋণের আবেদনও সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। গ্রাহকদের এখন আর অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স সার্টিফিকেট, চেক রিকুইজিশন কিংবা অন্যান্য নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা পেতে শাখায় যেতে হয় না।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা বাংলাদেশে আর্থিক লেনদেন সহজ করে দিয়েছে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আপনারা কী ধরনের সেবা দিচ্ছেন?

কিমিয়া সাআদত : কমিউনিটি ব্যাংক বর্তমানে সব ধরনের গ্রাহকের জন্য রিটেইল ও করপোরেট ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে। ব্যাংকের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহকরা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন যেমন অন্যান্য ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) অর্থ প্রেরণ, বেতন বা বিল প্রদান, অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট, সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স সার্টিফিকেট তৈরি, চেক ও কার্ডের জন্য আবেদন সবই করতে পারেন। এ ছাড়া পে-রোল ঋণের আবেদনও সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : অনলাইন ব্যাংকিং লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রায়ই সতর্কতা জারি করা হয়। আপনার ব্যাংকে অনলাইন লেনদেনে গ্রাহকদের নিরাপত্তা কেমন?

কিমিয়া সাআদত : কমিউনিটি ব্যাংক শুরু থেকেই অনলাইন ব্যাংকিং গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক মানদ- ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকটি টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন পদ্ধতি চালু করেছে, যার মাধ্যমে অনলাইন লেনদেন আরও নিরাপদ হয়েছে। এ ছাড়া, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে পাসওয়ার্ড নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তদুপরি, ব্যাংক নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের সাইবার নিরাপত্তা হুমকি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করে আসছে।

দেশ রূপান্তর : ব্যাংকের কত শতাংশ গ্রাহক এখন ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন? বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ কেমন?

কিমিয়া সাআদত : কমিউনিটি ব্যাংকের সব গ্রাহকই ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার রাখেন। বর্তমানে প্রায় ৮১ শতাংশ (২ লাখ ১৪ হাজার) অ্যাকাউন্টধারী নিয়মিতভাবে এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত এবং ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ব্যাংকের মোট লেনদেনের প্রায় ৬০ শতাংশ এখন ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।

বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ক্রমবর্ধমান স্মার্টফোন ব্যবহার, ইন্টারনেটের সহজলভ্য এবং গ্রাহকদের ডিজিটাল সেবার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনে ব্যাংক খাত আরও বেশি ডিজিটাল ও স্মার্ট হয়ে উঠবে।

দেশ রূপান্তর : এখন প্রায় সব ব্যাংকেরই ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। আপনাদের ব্যাংকে কার্ডধারীর সংখ্যা কত? ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল কার্ড আনার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না?

কিমিয়া সাআদত : কমিউনিটি ব্যাংকের বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডেবিট কার্ড এবং ২৭ হাজার ক্রেডিট কার্ড গ্রাহক রয়েছে। গ্রাহকদের চাহিদা ও আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধার কথা বিবেচনা করে ব্যাংক শিগগিরই ভার্চুয়াল কার্ড চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা অনলাইন লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করবে।

দেশ রূপান্তর : কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্যাশলেস বা নগদবিহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে লেনদেনের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে বাংলা কিউআর কোড। কতটা এগিয়েছে এই কার্যক্রম?

কিমিয়া সাআদত : কমিউনিটি ব্যাংক শুরু থেকেই ক্যাশলেস লেনদেন প্রচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যাংক ইধহমষধ ছজ ব্যবহারের পরিধি ও মার্চেন্ট সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এ ছাড়া, অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গ্রাহকদের জন্য নির্বিঘœ লেনদেনের সুযোগ তৈরি করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কমিউনিটি ব্যাংকই সারা দেশে বাংলা কিউআর ও যেকোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ট্রাফিক জরিমানা পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করেছে, যা ডিজিটাল লেনদেনের প্রসারে একটি বড় পদক্ষেপ।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল লেনদেন নিরাপদ রাখতে গ্রাহকদের করণীয় কী?

কিমিয়া সাআদত : ডিজিটাল লেনদেন নিরাপদ রাখতে গ্রাহকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। যেমন : পাসওয়ার্ড ও পিন গোপন রাখা কখনোই কারও সঙ্গে পাসওয়ার্ড, পিন বা ওটিপি শেয়ার করবেন না; শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে জটিল পাসওয়ার্ড তৈরি করুন এবং নিয়মিত পরিবর্তন করুন; অফিশিয়াল অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করা শুধু ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ থেকে লেনদেন করুন, অচেনা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন; ওটিপি বা ভেরিফিকেশন কোড শেয়ার না করা কোনো ফোনকল বা মেসেজে কেউ দাবি করলেও ওটিপি কখনো শেয়ার করবেন না; ডিভাইস সিকিউরিটি বজায় রাখা মোবাইল ও কম্পিউটারে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত আপডেট রাখুন; লেনদেন নোটিফিকেশন চালু রাখা এসএমএস বা ইমেইল নোটিফিকেশন সক্রিয় রাখুন, যাতে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেন এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমে সতর্ক থাকা কোনো সন্দেহজনক লেনদেন বা ফোনকল পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের হেল্পলাইন বা নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করুন। এসব নিয়ম মেনে চললে গ্রাহকরা নিজেদের ডিজিটাল ব্যাংকিং লেনদেন অনেক বেশি নিরাপদ রাখতে পারবেন।