ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহকের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

দেশ রূপান্তর : প্রতিষ্ঠার পর থেকে আপনার ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেবা নিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে ডিজিটাল সেবা। তথ্য প্রযুক্তির এ সময়ে আপনার প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি কেমন?

এম খোরশেদ আনোয়ার : ইস্টার্ন ব্যাংক সবসময়ই বিশ্বাস করে ব্যাংকিং মানে হলো সুবিধার পরিসর বাড়ানো। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের যাত্রার শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল গ্রাহকের সময়, নিরাপত্তা ও অভিজ্ঞতা উন্নত করা। বর্তমানে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, দেশের অন্যতম উন্নত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ স্কাই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা ঘরে বসেই প্রায় সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। আমাদের প্রত্যাশা ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকিংকে সহজ করা যা বাস্তবায়িত হয়েছে, এবং আমরা প্রতিনিয়ত নতুনত্ব যোগ করছি।

দেশ রূপান্তর : আপনার ব্যাংকের ডিজিটাল কার্যক্রমের মূল দিকগুলো কি?

এম খোরশেদ আনোয়ার : গ্রাহকরা আমাদের স্কাই ব্যাংকিং অ্যাপ এ অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে বিল পেমেন্ট, কার্ড ম্যানেজমেন্ট ও ফান্ড ট্রান্সফার পর্যন্ত সব কিছু করতে পারছেন। পাশাপাশি, করপোরেট ক্লায়েন্টদের জন্যও রয়েছে ইবিএল কানেক্ট একটি উন্নত ডিজিটাল ট্রানজাকশন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আপনাদের কী ধরনের ঋণ সুবিধা আছে, থাকলে কীভাবে কাজ করছে?

এম খোরশেদ আনোয়ার : আমরা পার্সোনাল লোন, ক্রেডিট কার্ড লোন, অটো লোনসহ বিভিন্ন ধরনের রিটেইল ঋণসেবা দিচ্ছি। গ্রাহকরা আমাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রাথমিক আবেদন জমা দিতে পারেন।

দেশ রূপান্তর : ঋণ বিতরণে নিয়মকানুনে অ্যানালগ পদ্ধতি নাকি ঋণের আবেদন অনলাইনে সম্ভব?

এম খোরশেদ আনোয়ার : ঋণের আবেদন এখন অনলাইনে করা যায়। গ্রাহক অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডকুমেন্ট জমা দিলে আমাদের প্রসেসিং টিম তা যাচাই করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু যাচাইকরণ ধাপ অফলাইন এ সম্পন্ন করতে হয়, তবে পুরো প্রক্রিয়া এখন অনেকটাই ডিজিটাল।

দেশ রূপান্তর: ঋণ বিতরণের পর ঋণ আদায়ে সমস্যার কথা সব সময় শুনে থাকি। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আপনাদের পরিস্থিতি কী?

এম খোরশেদ আনোয়ার : আমরা ডেটা অ্যানালিটিকস ও বিহেভিয়ার স্কোরিং ব্যবহার করি, যা আমাদের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। ফলে ঋণ আদায়ের হার ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির তুলনায় ভালো। পাশাপাশি, গ্রাহকরা এস আই (স্ট্যান্ডিং ইন্সট্রাকশন) এর মাধ্যমে অনলাইনেই কিস্তিপরিশোধ করতে পারেন, যা তাদের সময় ও ঝামেলা দুই-ই কমায়।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল ব্যবস্থায় আদায়ের জটিলতা কেমন?

এম খোরশেদ আনোয়ার : আমরা নিয়মিত গ্রাহকের পেমেন্ট বিহেভিয়ার মনিটর করতে পারি, ফলে আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়। এসএমএস নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নিয়মিত রিমাইন্ডার পাঠানো হয়। এর ফলে ডিফল্ট রেট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সেবায় ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে কি কি সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে?

এম খোরশেদ আনোয়ার : ইবিএল দেশের প্রথম ব্যাংকগুলোর একটি যারা ইএমভি কার্ড, কন্টাক্টলেস কার্ড ও ভার্চুয়াল কার্ড চালু করেছে। গ্রাহক এখন মোবাইল ফোন দিয়ে নিরাপদ লেনদেন করতে পারছেন। তবে ডিজিটাল লেনদেনে গ্রাহকের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আমরা নিয়মিত সাইবার সিকিউরিটি কমিউনিকেশন ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল সেবার অন্যতম জনপ্রিয় দিক হলো অ্যাপের ব্যবহার। আপনার ব্যাংক এ ক্ষেত্রে কি উদ্যোগ নিয়েছে?

এম খোরশেদ আনোয়ার : স্কাই ব্যাংকিং ইবিএল স্কাই ব্যাংকিং অ্যাপ আমাদের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের কেন্দ্রবিন্দু। এতে রয়েছে ফান্ড ট্রান্সফার, বিল পেমেন্ট, কিউআর পেমেন্ট সব এক জায়গায়। বর্তমানে আমাদের ব্যবহারকারী সংখ্যা ৪.৫ লক্ষাধিক এবং ক্রমবর্ধমান। আমরা নিয়মিত অ্যাপের অনবোর্ডিং ও কাস্টমার এনগেজিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করি।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল সেবায় কম বেতনের চাকরিজীবীদের জন্য আপনাদের কি ব্যবস্থা রয়েছে?

এম খোরশেদ আনোয়ার : আমরা বিশ্বাস করি ডিজিটাল ব্যাংকিং সবার জন্য। তাই আমাদের ইবিএল পেরোল সল্যুশনের মাধ্যমে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কর্মীদের বেতন সরাসরি ডিজিটালি প্রদান করছে। কর্মীরা এটিএম এর মাধ্যমে টাকা উত্তোলন ও স্কাই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার, বিল প্রদান করতে পারছেন কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আপনার ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

এম খোরশেদ আনোয়ার : আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা দেওয়া যেখানে গ্রাহক যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটালভাবে সেবা পাবেন। আমরা ভবিষ্যতে এআই-ড্রিভেন ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস চালুর পরিকল্পনা করছি, যাতে ব্যাংকিং আরও সহজ, স্মার্ট ও মানবিক হয়ে ওঠে।