ব্রাজিলের সাবেক ফুটবল তারকা রবিনহো ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ড ভোগ করছেন। জেলে যাওয়ার পর এই প্রথমবার পাওয়া গেছে তার বক্তব্য। সাবেক ব্রাজিল তারকা জানিয়েছেন, ফুটবলার হওয়ার কারণে তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন না। অন্য বন্দিদের মতোই তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের ট্রেমেম্বে শহরের পেনিটেনসিয়ারিয়া-২ কারাগারে আছেন রবিনহো। ২০১৩ সালে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তাকে ৯ বছরের সাজা দিয়েছিল ইতালির একটি আদালত। তবে ব্রাজিল সরকার রবিনহোকে ইতালির কাছে প্রত্যার্পণে অসম্মতি জানায়। যে কারণে ব্রাজিলেই তার সাজা কার্যকর করা হচ্ছে।
‘বিখ্যাতদের কারাগার’ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৩০ জন কয়েদি আছেন। সেখানে সমান আচরণ পাচ্ছেন বলেই দাবি করেছেন সাবেক এই তারকা। স্থানীয় তাউবাতে কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমার খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, সবকিছু অন্য বন্দিদের মতোই। কেউ আমাকে আলাদা করে কোনো সুবিধা দেয় না।’
তিনি আরও জানান, পরিবার ও সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও সবার মতোই সীমিত। সপ্তাহে একদিন শুধু রবিবারেই বিনোদনের সুযোগ পান বন্দিরা। রবিনহোর ভাষায়, ‘এখানে যারা কারারক্ষীর দায়িত্বে আছেন, তারাই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। বন্দিরা শুধু সেসব নির্দেশনা মেনে চলে।’
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার ‘নেতৃত্বমূলক ভূমিকা’ বা ‘বিশেষ সুবিধা’ নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, রবিনহো সেগুলোকে ‘মিথ্যা ও মনগড়া’ বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার কোনো মানসিক সমস্যা নেই, কোনো রকমের ওষুধও খাই না। কারাগারে থাকা কঠিন বিষয়, কিন্তু আমি ধৈর্য ধরে আছি।’
২০১৩ সালে মিলানের এক নাইটক্লাবে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করেছিলেন রবিনহো এবং তার বন্ধুরা। ফোনালাপে নিজেদের অপরাধ নিয়ে হাসাহাসিও করেছিলেন তারা। ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক ফরোয়ার্ড ২০২০ সালে ফুটবল থেকে অবসরে যান। ব্রাজিলের জাতীয় দলের হয়ে তিনি দুটি বিশ্বকাপে খেলেছেন।