‘ট্রেড গ্রুপ’ ও ‘টাউন এসোসিয়েশন’ ক্যাটাগরি নিয়ে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের নিরসনের নির্দেশনা দিয়ে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আগামী ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। চেম্বারের সংঘবিধি অনুযায়ী চারটি ক্যাটাগরি থেকে ২৪ জন পরিচালক নিয়ে চেম্বার পরিচালনা পর্ষদ গঠন হবার কথা থাকলেও একটি মহল ‘টাউন এসোসিয়েশন’ ও ‘ট্রেড গ্রুপ’ এর সদস্যদের ভোটাধিকার বাতিলের জন্য বিভিন্ন নানাভাবে তদবির চালিয়ে আসছিল।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চেম্বার নির্বাচন বোর্ড উল্লেখিত ক্যাটাগরি দু’টির সদস্যদের ভোটার তালিকাভূক্ত করেন এবং ওই দুই ক্যাটাগরি থেকে ৩জন করে ছয় জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার পথে রয়েছেন। এ অবস্থায় গত ২২ অক্টোবর হারবিস কনভার্টিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বেলালের দায়ের করা এক রিটিশনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুই ক্যাটাগরিকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণের নির্দেশনা সম্বলিত গত ৪ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড অর্গানাইজেশন-১-এর উপসচিব কর্তৃক জারি করা স্মারকের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
এদিকে, সূত্র জানায়, হাইকোর্টের এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে সরকারের পক্ষ থেকে চেম্বার জজের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি ফারাহ মাহুববের আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে এর উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ চেম্বার নির্বাচনের ওপর দুই সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন এবং এই সময়ের মধ্যে ‘টাউন এসোসিয়েশন’ ও ‘ট্রেড গ্রুপ’ ক্যাটাগরির সমস্যা নিরসনের জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়েরকারী ব্যবসায়ী মো. বেলালের আইনজীবী নিহাদ কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী নির্দিষ্ট তারিখে ট্রেড গ্রুপ ও টাউন এসোসিয়েশনের সদস্যরা নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে যাচাই বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন বোর্ড। এতে টাউন এসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ থেকে তিনটি করে পদের বিপরীতে ৩জন করে প্রার্থী রয়েছেন। এই ছয়জনই ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরা ‘ প্যানেল থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছিলেন। এরা হলেন- ট্রেড গ্রুপ থেকে মো. আমিরুল হক, এস এম সাইফুল আলম ও মোহাম্মদ আকতার পারভেজ এবং টাউন এসোসিয়েশন থেকে মো. সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, মো. মনির উদ্দিন ও আফসার হাসান চৌধুরী।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের দুঃখ প্রকাশ : আগামী ১লা নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য দীর্ঘ প্রতিক্ষিত চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম প্যানেলের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে।
প্যানেলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন গণসংযোগে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী সমাজে যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছিল, নির্বাচন স্থগিতের ফলে সেই প্রত্যাশা ও উদ্দীপনার মাঝে যে হতাশা দেখা দিয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আমরা আশা করি, যাঁরা সাধারণ ভোটারদের উপর আস্থা না রেখে মামলা মোকদ্দমার মাধ্যমে এই নির্বাচন স্থগিতের উদ্যোগ নিয়েছেন, তারা সাধারণ ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে নির্বাচনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন । ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রামের সাধারণ ব্যবসায়ী সমাজের পাশে থাকতে অঙ্গীকারাবব্ধ ।
সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রতিক্রিয়া : চেম্বার নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল লিডার এস এম নুরুল হক বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির উপস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ দুই সপ্তাহের জন্য চেম্বার নির্বাচন স্থগিত করেন এবং এই সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ শুনানি করে রিট পিটিশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তের পর নতুন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আমরা আশা করি, ১৫ দিনের ভেতর হাইকোর্ট সুন্দর, সত্যিকার এবং বিচার বিশ্লেষণ করে ট্রেড গ্রুপ ও টাউন এসোসিয়েশনের সদস্যদের বাতিল করবে। আর আমরা আগের মতো অবশ্যই সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে তাদের পাশে থাকবো।