গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক নারীকে আটক করেছে।
গতকাল শনিবার উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের দুর্গম তিস্তার চরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. আব্দুস সালাম (৫০)। তিনি একই ইউনিয়নের রামডাকুয়া গ্রামের মো. ওয়ামেদ আলীর ছেলে। আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল গণি মিয়ার গোয়াল ঘরে প্রবেশ করেন আব্দুস সালাম। এ সময় গণি মিয়ার স্ত্রী দুলালী বেগম বিষয়টি টের পেয়ে তার স্বামীকে জানান। পরে তারা আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। এরপর স্থানীয়রা এসে সালামের দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে। মারপিট শেষে আব্দুল সালামকে একটি পুকুরের পানিতে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। সকালে পুকুর থেকে তুলে সালামকে আবার মারপিট করা হয়। মারপিটের একপর্যায়ে সালাম মারা যান।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল হাকিম আজাদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুলালী বেগম নামের এক নারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনা অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত করছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে নিহতের স্বজনরা বলছেন, আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। হাট-বাজারে গিয়ে মানুষের কাছে হাত পেতে খেতেন। এর আগে কখনো তার বিরুদ্ধে চুরি বা অপকর্মের অভিযোগ ওঠেনি। তাদের দাবি, সালামকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের ছোট ছোট তিনটি ছেলে সন্তান রয়েছে, বাবাকে হারিয়ে তারা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা এই হত্যার বিচার দাবি করে।