মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই আদালত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে একই আদেশ দিয়েছে।
গতকাল রবিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের ট্রাইব্যুনাল পৃথক আদেশ দেয়। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করতে প্রসিকিউশন ও আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আইনজীবীদের শুনানি শেষ হলে ২ নভেম্বর (গতকাল) আদেশের জন্য দিন ধার্য করে এই আদালত।
ইনুর বিরুদ্ধে আগামী ৩০ নভেম্বর ও হানিফের বিরুদ্ধে ২৫ নভেম্বর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছে আদালত। গতকাল ইনুকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় সাতজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলোয় সাক্ষী করা হয়েছে ২০ জনকে। ট্রাইব্যুনালে ইনুর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। গতকাল তাকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু হত্যা মামলা করা হয়। এসব মামলায় তাকে বেশ কয়েকবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
অন্যদিকে গত ৫ অক্টোবর হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান খান আতা। আসামিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, হত্যাসহ কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় গত বছরের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে আন্দোলনকারী ছয়জনকে গুলি করে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে। পলাতক হানিফসহ চারজনের পক্ষে শুনানি করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, হাসানুল হক ইনু জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি এবং ১৪-দলীয় জোটের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আন্দোলন দমনে পরিকল্পনা গ্রহণ, কারফিউ জারি এগুলোর বিষয়ে তার যে ভূমিকা ছিল, সেই কমান্ড ও সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটির কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো দাখিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তার (ইনু) নানা ধরনের টেলিফোন কনভারসেশন আছে বিগত সময়ে যিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনার সঙ্গে। টেলিফোনে কথা বলে ড্রোন ব্যবহার করা, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বোম্বিং করা এভাবে ছাত্র- জনতাকে হত্যা করার যে পরিকল্পনা, তাতে তিনি সম্মতি জানিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, একই রকম অভিযোগে মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য হয়েছে।