নির্বাচন নিয়ে সংশয়ের মধ্যেই জনমত গড়তে নামল সরকার

রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনটি কখন হবে, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে একটি ঘোষণার অপেক্ষায় আছে রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিকরা। গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে বেশ মতভেদ আছে। এ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য দলগুলো ও নাগরিকদের অপেক্ষায় রেখে জাতীয় নির্বাচনের জন্য জনমত গড়তে প্রচার শুরু করেছে সরকার।

প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে জাতীয় নির্বাচন ২০২৬-এর প্রতি নাগরিকদের আগ্রহ তৈরির জন্য প্রথম ‘টিজার’ প্রচার করা হয় গতকাল রবিবার। এতে বলা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারির এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মালিকানা বুঝে নেবে দেশের জনগণ। টিজারে এ নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে এতে অংশ নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুমের শিকার হওয়া ও বিডিআর হত্যাকা-ের তদন্ত কার্যক্রমের সমন্বয়ক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ড. খান সুবায়েল বিন রফিক।

এর আগে গতকাল দুপুরে ৪৮ সেকেন্ডের এ টিজারটি এক বার্তায় সাংবাদিকদের জন্য প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।

‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ সেøাগানে প্রচারিত এ টিজারে খান সুবায়েল বিন রফিক বলেন, ‘এ নির্বাচনের মাধ্যমে আপনাকে আপনার দেশের দখল বুঝে নিতে হবে। আপনার ভোটটি আপনি দিয়ে নির্ধারণ করুন কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান।’

জুলাই সনদ ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিএনপির কড়া সমালোচনা ও সনদটি বাস্তবায়নে গণভোটের দিন নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) দলগুলোর মতবিরোধ চলমান থাকার মধ্যে সরকার জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রচার শুরু করল।

এ প্রসঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় আলোচনা করে একটি সুপারিশ সরকারকে দিয়েছি। এটি অনৈক্যের সুপারিশ নয়।’ তার দাবি, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে ঐক্য স্থাপন করার একটি দিক এ সনদের মাধ্যমে উন্মোচন করা হলো।

সরকার বলছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে। বিএনপি চায় জাতীয় নির্বাচন ও সনদ ইস্যুতে গণভোট একই দিনে হোক। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী চায় চলতি নভেম্বরেই গণভোট। আর এনসিপি চায় গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে তারপর জাতীয় নির্বাচন।

গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে দলগুলোর কাদা ছোড়াছুড়ি ও নানামুখী নেতিবাচক বক্তব্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েই রাজনীতিক ছাড়াও সাধারণের মনে সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সরকার জামায়াত ও এনসিপির পক্ষে কাজ করছে। আবার এনসিপি ও জামায়াত নেতাদের দাবি, সরকার বিএনপির প্রতি ঝুঁকে আছে। এর বাইরে নির্বাচনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থকরা কী ভূমিকা নেবেন, সে বিষয়েও জনমনে প্রশ্ন আছে।

রাজনীতিক ও অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের কারণে জনগণের ভেতরে কিছুটা অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সেটি দূর করতে হলে সরকারেরই রাস্তা বের করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী মাঠে নামিয়ে দিতে হবে। দলগুলোকে বিশ্বাস করতে হবে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান হবেই।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সব দলকে একই সুরে কথা বলতে হবে। জুলাই-আগস্ট পক্ষের শক্তির কাছ থেকে নির্বাচন অনিশ্চয়তার দিকে যেতে পারে, এমন বক্তব্য অনাকাক্সিক্ষত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক এ সহসভাপতি বলেন, ‘সরকারকেও নির্বাচন নিয়ে অবিশ্বাস সৃষ্টির মতো কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।’