বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ক্রিকেট কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের পথে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্স ২০২৫’ — যেখানে দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
এই আয়োজনের মাধ্যমে বিসিবির দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি “কানেক্ট অ্যান্ড গ্রো (Connect and Grow)” আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এর লক্ষ্য—বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অঞ্চলভিত্তিকভাবে শক্তিশালী করা।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, এই কনফারেন্সই বিকেন্দ্রীকরণের প্রথম কার্যকর ধাপ। তিনি বলেন, “আমাদের সংবিধানে ‘কানেক্ট অ্যান্ড গ্রো’ নামে একটি প্রোগ্রাম আছে। এই প্রোগ্রামের প্রথম কাজ হলো দেশের প্রতিটি কোণার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা এবং তাদের বাস্তব অবস্থা বোঝা। আমরা ইতিমধ্যে কিছু পাইলট প্রকল্প করেছি।”
তিনি উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১১ জেলার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আন্তঃজেলা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কথা উল্লেখ করেন, যা পরিচালনা করেন বোর্ড পরিচালক মঞ্জুর আহমেদ এবং সাবেক পরিচালক আকরাম খান।
“এই উদ্যোগটি দারুণভাবে কাজ করেছে,” বলেন আমিনুল। “রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে আমরা জেলা পর্যায়ের কোচদের নিয়ে কাজ করেছি এবং তাদের দক্ষতা বাড়িয়েছি। তবে আসল কাজ এখন শুরু হচ্ছে—৬৪ জেলার মানসিকতা ও পদ্ধতি বোঝা, তারা কী চায়, কোথায় পিছিয়ে, তাদের ক্রীড়া পরিবেশ কেমন—এসব জানা।”
কনফারেন্সটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি হবে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও পরিকল্পনা বিনিময়ের জাতীয় প্ল্যাটফর্ম, যা দেশের ক্রিকেট কাঠামোর প্রতিটি স্তরকে একত্র করবে।
আমিনুল আরও জানান, প্রতিটি জেলা থেকে চারজন করে প্রতিনিধি অংশ নেবেন—
১. ক্রিকেট প্রেসিডেন্ট (পূর্বের ‘কাউন্সিলর’)
২. সরকারি ক্রীড়া কর্মকর্তা (ডিসি অফিস থেকে)
৩. জেলা কোচ
৪. একজন নারী উদ্যোক্তা
“এই চারজন প্রতিনিধি ৯ ও ১০ নভেম্বর ঢাকায় এক ছাদের নিচে একত্র হবেন,” বলেন বিসিবি সভাপতি। তিনি যোগ করেন, নারী উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য হলো—ক্রিকেটে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়ানো।
এই সম্মেলনকে অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে আগে থেকেই প্রতিটি প্রতিনিধিকে কিছু প্রাথমিক কাজ দেওয়া হয়েছে।
“আমরা তাদের বলেছি—তোমাদের জেলায় ক্রিকেটে দুইটি জিনিস আছে যা ভালো, এবং দুইটি জিনিস আছে যা দরকার—এগুলো লিখে আনতে। কেউ হয়তো বলবে অর্থ বা অবকাঠামোর অভাব আছে, কেউ বলবে প্রতিভা বা আগ্রহ প্রচুর। মূল লক্ষ্য হলো বাস্তব চিত্র বোঝা,” ব্যাখ্যা করেন আমিনুল।
তিনি চারজন প্রতিনিধির দায়িত্বও পরিষ্কার করেন—
-
ক্রীড়া কর্মকর্তা সরকার ও বিসিবির সমন্বয়ের কাজ করবেন,
-
কোচ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দেবেন,
-
নারী উদ্যোক্তা মেয়েদের ক্রিকেটে উদ্বুদ্ধ করবেন,
-
আর ক্রিকেট প্রেসিডেন্ট জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।
আমিনুল বলেন, এই কনফারেন্সের তথ্য ও পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করেই বিসিবি বিকেন্দ্রীকরণের পরবর্তী ধাপের পরিকল্পনা করবে।
“আমরা যখন জানব প্রতিটি জেলার চাহিদা কী, তখন সেই ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নিতে পারব—হোক তা ৫০টি নতুন কংক্রিট পিচ, ১০০টি টার্ফ উইকেট, স্থানীয় লিগের তহবিল, কিংবা স্বল্পমূল্যে বল সরবরাহ। ডেটা ছাড়া কার্যকর সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়,” তিনি উল্লেখ করেন।
বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়াকে স্থায়ী ও কার্যকর করতে বিসিবি বিভিন্ন বিভাগে মিনি আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের পরিকল্পনাও করেছে। এসব অফিস স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি করবে এবং ঢাকার কেন্দ্রীয় অফিসের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।
শেষে বিসিবি সভাপতি বলেন, “এটি একটি বিশাল কাজ। কিন্তু প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্স আয়োজন করা। ইনশাআল্লাহ, এই সম্মেলন দেশের ক্রিকেটকে আরও সংযুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অঞ্চলভিত্তিকভাবে শক্তিশালী করার ভিত্তি গড়ে দেবে।”