সাব্বির রহমান কি একটা সুযোগ পাবেন?

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ১১:১০ এএম

টি-টোয়েন্টিতে মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের টানা ব্যর্থতায় দলে পরিবর্তন আবশ্যক হয়ে পড়েছে। শামীম হোসেন পাটোয়ারী, জাকের আলী অনিক আর তাওহীদ হৃদয়ের দৃষ্টিকটু ব্যাটিং দলকে ভোগাচ্ছে, দর্শকদের চোখকেও পোড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঢল, মাঠে গ্যালারি থেকে বিদ্রুপ সবই ধেয়ে আসছে এই সব ক্রিকেটারের দিকে। আয়ারল্যান্ড সিরিজে এই ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের বাইরে রাখতে হলে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে যাদের নাম ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে, তাদের একজন সাব্বির রহমান। জাতীয় দলের হয়ে ৪৮টা টি-টোয়েন্টি খেলা সাব্বির প্রায় বছর তিনেক আগে খেলেছেন সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাব্বিরকে কি একটা সুযোগ দেবেন নির্বাচকরা?

সাব্বির এখন খেলছেন জাতীয় ক্রিকেট লিগের চারদিনের ম্যাচের সংস্করণে। খুলনার বিপক্ষে তার দল রাজশাহীর ম্যাচটা চলছে মিরপুরেই। যে কারণে সাংবাদিকদের একটা অংশের চোখও তার দিকে। আগের ম্যাচে সাব্বির ৭৫ বলে ৫৪ ও ২৭ বলে ৩১ রান করেছিলেন চট্টগ্রামের বিপক্ষে। মিরপুরে খুলনার বিপক্ষে চলমান ম্যাচে রাজশাহীর প্রথম ইনিংসে তার রান ৩৫ বলে ২১। এই সবই অবশ্য লাল বলের খেলায়। যে সংস্করণে সাব্বিরকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন অনেকেই, সেই টি-টোয়েন্টিতে সাব্বিরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখে নেওয়া যাক। এনসিএল টি-টোয়েন্টি হচ্ছে সবশেষ ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা, যে আসরে রাজশাহীর হয়ে সাব্বিরের ৭ ম্যাচের ৫ ইনিংসে রান ১০২, খেলেছেন ৭৩ বল, ৪ মেরেছেন ৫টি আর ছক্কা ৬টি, স্ট্রাইক রেট ১৩৯.৭২। এনসিএলে অংশ নেন শুধু দেশের ক্রিকেটাররাই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাছাকাছি বাংলাদেশের যে ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা যেতে পারে সেটা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। সবশেষ আসরে (বিপিএল ২০২৪) ঢাকা ক্যাপিটালস দলের হয়ে ৯ ম্যাচের ৯ ইনিংসে ১৮৯ রান সাব্বিরের, খেলেছেন ১১৮ বল, ৬টা চারের পাশাপাশি মেরেছেন ১৮টা ছক্কা। সিলেট স্টেডিয়ামে চিটাগং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে ৩৩ বলে ৮২* রান করেছিলেন সাব্বির, তাতে ৩টা চার আর ৯টা ছক্কা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কোনো একটা বিপিএলের ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা সাব্বিরের, তার ওপরে আছেন ১১ ছক্কার তামিম ইকবাল। দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার মিলিয়ে অবশ্য সাব্বির বেশ পেছনে, সেখানে ক্রিস গেইল, জনসন চার্লস, এভিল লুইসদের মতো ক্যারিবিয়ানদেরই দাপট।

 

সাব্বির যতটা না পারফরম্যান্সের জন্য দল থেকে বাদ পড়েছেন, তার চেয়ে বেশি শৃঙ্খলাজনিত কারণে। ২০১৬ থেকে ২০২১, এই সময়ে নানান অপকর্মের জন্য ৩ বার শাস্তি পেয়েছেন সাব্বির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্তকে গালাগাল দেওয়া, সতীর্থকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করা ও পাথর ছোড়াসহ বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। সবশেষ বিপিএলের মৌসুমেও ঢাকা ক্যাপিটালস কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন তাকে ম্যাচের পর ম্যাচ বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন। সাব্বিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকাসহ বেশ কিছু শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগের কথাই জানিয়েছিলেন ক্যাপিটালস কোচ। এমন একজন অপেশাদার আচরণের ক্রিকেটারকে ফের জাতীয় দলে ফেরানোটা কতটা যৌক্তিক? এমন প্রশ্নে জাতীয় দলের সাবেক এক ক্রিকেটারের অভিমত, ‘আগে দেখা দরকার যাকে নেওয়া হবে সে পারফর্ম করছে কি না? তাকে কী ভূমিকায় জাতীয় দলে প্রয়োজন। যদি এসব ঠিক থাকে তাহলে অন্য অনেক কিছুই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।’

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় দলে বেশিরভাগ ক্রিকেটারই সুযোগ পান অন্যদের অযোগ্যতায়। সৌম্য সরকার আফগানিস্তান সিরিজের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেয়েছিলেন অধিনায়ক লিটন দাসের চোটের কারণে। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েন সৌম্য, সেই সিরিজে তার রান ছিল ১০, ৪৩, ১১। সিরিজটা বাংলাদেশ জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। এরপর বিপিএলে ৪ ম্যাচে করেছেন ১০৫ রান, সর্বোচ্চ ইনিংস ৭৪ রানের। এনসিএল টি-টোয়েন্টির ফাইনালে ২২ বলে করেছেন ৮ রান। এ সবের পরও সৌম্য ফের সুযোগ পেয়েছিলেন, ভিসা জটিলতায় যেতে পারেননি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও হয়তো ফের ঢুকে পড়বেন জাতীয় দলে, কারণ তার গায়ে লেগে আছে ‘প্রতিভাবান’ তকমা। যদিও এক দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের পাশাপাশি একাধিক উদীয়মান ক্রিকেটারদের আসরে খেলেও সৌম্য এখনো পুরোপুরি ‘উদিত’ হওয়ার অপেক্ষায়!

সমস্যা হচ্ছে নির্বাচকরা সবাইকে এক পাল্লায় মাপছেন না। যে কারণে টানা খারাপ খেলেও শামীম, জাকেররা টিকে যাচ্ছেন। একাদশেও সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। বিকল্পের অভাবে নির্বাচকরাও তাদের ওপর ভরসা রেখে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। অথচ নাঈম শেখ কেন দলে এলেন আর কেন বাদ পড়লেন সেটা হয়তো তিনি নিজেও জানেন না! সাইফ উদ্দিন চট্টগ্রাম গিয়ে জানতে পারেন তিনি দলে নেই। এমন উদ্ভট উটের পিঠেই চলছে দল নির্বাচন।

লিটন যখন টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক হলেন, তখন তার ফর্ম পড়তির দিকে। সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এর চেয়ে খারাপ আর কী হবে! তারুণ্যের ওপর আস্থা রেখে জাকের শামীমদের দেখে যদি বোধোদয় হয় নির্বাচকদের, তাহলে ৪৮টা টি-টোয়েন্টি খেলা সাব্বিরকে একটা সুযোগ ঘরের মাঠে দিয়ে দেখতেই পারেন নির্বাচকদ্বয়। সাব্বির আর কতই বা খারপ করবেন!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত