২৪ ঘণ্টায় শান্তকে অধিনায়কত্বে ফেরাতে যেভাবে রাজি করালেন ফারুক

বাংলাদেশ টেস্ট দলের নেতৃত্বে আবারও দেখা যাবে নাজমুল হোসেন শান্তকে। অথচ কিছুদিন আগেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন—আর নেতৃত্ব দিতে চান না। তবে শেষ পর্যন্ত কীভাবে মত বদলালেন বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক?

ঘটনার পেছনে আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদ। এক সময় বোর্ড সভাপতির পদ হারিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি, পরে আবার নির্বাচনের মাধ্যমে ফিরেছেন বোর্ডে। এবার তিনিই শান্তকে ফের রাজি করালেন নেতৃত্ব নিতে।

ক্রিকবাজ জানিয়েছে, ঘটনার শুরু কয়েক সপ্তাহ আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন শান্তকে নেতৃত্বে ফেরার অনুরোধ করেন। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দু’জনের সেই বৈঠক চলে প্রায় ৪০ মিনিট। কিন্তু তখনও রাজি হননি শান্ত।

কারণ? শান্ত মনে করেছিলেন, আবার নেতৃত্বে ফিরলে জনমনে সেটা সুযোগসন্ধানী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষত, তিনি জানেন মিডিয়ার প্রিয় মুখ তিনি নন—খোলামেলা এবং নির্ভীক বক্তব্যের জন্য অনেক সময়ই সমালোচনার মুখে পড়েন।

তবু পরিসংখ্যান বলছে, শান্তই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক—১৪ টেস্টে ৪ জয়, ১ ড্র, ৯ হার; জয় শতাংশ ২৮.৫৭। সাকিব আল হাসানের ২১.০৫ এবং মুশফিকুর রহিমের ২০.৫৮ শতাংশ জয় হারকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ শেষে হঠাৎ করেই ২৮ জুন পদত্যাগ করেন তিনি।

এরপর ২৮ অক্টোবর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জরুরি বৈঠক ডাকেন। রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে অনুষ্ঠিত সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন ফারুক আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, খালেদ মাসুদ পাইলট (জুমে যোগ দেন) ও নাজমুল আবেদিন ফাহিম। আলোচনার বিষয়—আসন্ন আয়ারল্যান্ড সিরিজের আগে টেস্ট অধিনায়ক কে হবেন?

বৈঠকে জানা যায়, শান্ত ইতিমধ্যেই নাজমুলের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন। তখন ফারুক বলেন, “আমাকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিন, আমি চেষ্টা করব ওর মন পরিবর্তন করাতে।”

সূত্র জানায়, বিসিবির “ছায়া কমিটি”র কয়েক সদস্য শান্তর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু মূল ভূমিকা রাখেন ফারুক আহমেদ। এক বিসিবি কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে বলেন, “ফারুক ভাই শান্তকে বড় ছবি দেখিয়েছেন। বলেছিলেন, অতীত ভুলে সামনে তাকাও। উনি নিজেই একসময় বিতর্কে পড়ে বোর্ডের বাইরে ছিলেন, এখন আবার ফিরে এসে কাজ করছেন ক্রিকেটের জন্য। সেটাই শান্তকে অনুপ্রাণিত করেছে।”

অন্যদিকে, শান্তের অধিনায়কত্ব ছাড়ার পেছনে ক্ষোভও ছিল। শ্রীলঙ্কা সফরের আগে হঠাৎই তাকে ওয়ানডে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, দায়িত্ব যায় মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে। সে সময় ফারুক বোর্ডে ছিলেন না।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম পরে বলেন, “আমি একা কাউকে সরাতে পারি না, এটি ছিল বোর্ডের যৌথ সিদ্ধান্ত। তবে এখন মনে হয়, বিষয়টি আরও ভালোভাবে সামলানো যেত।”

এই অভিজ্ঞতা থেকেই আমিনুল এখন বোর্ডের ভেতরে জবাবদিহিতা বাড়াতে “শ্যাডো কমিটি” গঠন করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে একই রকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়।