চট্টগ্রাম বন্দর

২০৩০ সালের মধ্যে অপারেশনে আসবে বে টার্মিনাল

২০৩০ সালের মধ্যে অপারেশনে আসবে চট্টগ্রাম বন্দরের আগামীর বন্দর বলে খ্যাত বে টার্মিনাল। হালিশহর সাগর পাড়ের প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় এই টার্মিনালের ব্রেক ওয়াটার ও এক্সেস চ্যানেল এবং টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ করতে অর্থায়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। আর এই টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। সোমবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের শহীদ মো. ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘জেনারেল মার্কেট এনগেজমেন্ট কনফারেন্স ফর দ্যা বে টার্মিনাল মেরিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান আরও বলেন, বে টার্মিনাল শুধু চট্টগ্রাম নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। এটি চালু হলে আমাদের রপ্তানি সক্ষমতা ও জাহাজ আগমনের সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও আসবে আমূল পরিবর্তন।

বে টার্মিনালে ব্রেক ওয়াটার নির্মাণ বিষয়ে বিডারদের ডেকেছিল বন্দর কর্র্তৃপক্ষ। সভায় যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, চীন, ভারত, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সরাসরি ও অনলাইনে বে টার্মিনালে ব্রেক ওয়াটার নিয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ইতোমধ্যে বে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের নকশা ও প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও এসব বিডারদের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে দরপত্রের বিভিন্ন শর্তাবলী যুক্ত করা হতে পারে। 

উল্লেখ্য, বে টার্মিনালে তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। কিন্তু এই টার্মিনাল নির্মাণের আগে সাগরের অংশে ১৪২ বছর আগে ব্রিটিশ রয়েল নৌবাহিনীর সার্ভেতে বঙ্গোপসাগরের ভেতরে যে চরের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল সেই চরকে ব্যবহার করে কিভাবে ব্রেক ওয়াটার (চরের উপরে ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতার দেয়ালের মতো অবকাঠামো) নির্মাণ করতে হবে। এই ব্রেক ওয়াটারের ও জেটির মধ্যবর্তী অংশে জাহাজ ভিড়বে এবং পণ্য উঠানামার কাজ করবে। হালিশহর ইপিজেডের পেছন থেকে দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় বে টার্মিনাল নির্মিত হবে। সাগরের ভেতরের প্রায় ২৩০০ একর জায়গায় নির্মিত হতে যাওয়া বে টার্মিনালে জোয়ার-ভাটা, দিন-রাত, বাঁকা চ্যানেল কিংবা ড্রাফটের (গভীরতা) কোনো সেই সীমাবদ্ধতা নেই। বে টার্মিনাল নির্মাণ হলে যেকোনো দৈর্ঘ্য ও ১১ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে। বিপরীতে বর্তমান বন্দর চ্যানেলে মাত্র ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ কর্ণফুলীতে প্রবেশ করতে পারে। সেইক্ষেত্রেও জাহাজকে দুটি বাঁক অতিক্রম করতে হয় এবং দিনের মাত্র চার ঘন্টা সময় পাওয়া যায়। কিন্তু বে টার্মিনালে ২৪ ঘন্টা জাহাজ পরিচালনা করা যাবে। ল্যান্ড লর্ড পদ্ধতিতে চালু হতে যাওয়া বে টার্মিনাল চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্র বন্দরের অভাব গোচাবে বলে বন্দর সংশ্লিষ্টদের ধারণা।