জামায়াতসহ ৮ দল সরকারকে রেফারি চায়

‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত জানাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রধান উপদেষ্টা যে অনুরোধ জানিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলো চেষ্টা করব। নেতারা বসলে একটা সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে। তবে এখানে একজন রেফারির অভাব হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টাকে রেফারির ভূমিকা পালন করতে হবে।’

গতকাল সোমবার পূর্বনির্ধারিত যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জামায়াতসহ আট দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াত নেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। বৈঠকে জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সর্বশেষ অবস্থান এবং সংস্কারবিষয়ক বিভিন্ন মতামতের পর্যালোচনা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে তাহের বলেন, ‘আমরা গত রবিবার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। আজকে (গতকাল) প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এ আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয়, তা দেখতে চাই। তারা যদি আমাদের মতো সাড়া দেন, তাহলে বসতে আমাদের আপত্তি নেই। আমরা বসলেই একটা রাস্তা বেরিয়ে আসবে। উপদেষ্টা পরিষদ যে আহ্বান জানিয়েছে, সে বিষয়ে বলতে চাই, তারা যদি মনে করে তারা আর কিছু করবে না, দলগুলো মিলে করবে, তাহলে এখানে একজন রেফারির অভাব হতে পারে। সেজন্য আমরা বলছি, আমরা চেষ্টা করব। উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা এখানে একটা রেফারির ভূমিকা পালন করবেন আগের মতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম, তাতে হঠাৎ করে একটি দল বিরোধিতা করছে। আমরা আশা করি, তারা তাদের দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে গণভোট আগে আর পরে করে লাভ নেই। বরং গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ নির্বাচনের দিন হ্যাঁ বা না-ভোটে কারও মনোযোগ থাকবে না।’

এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। তবে জুলাই সনদ নিয়ে দেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল এবং নতুন বন্দোবস্তের স্বপ্ন এখনো অধরা।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আটটি দলের পাঁচ দফা দাবিতে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছি। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই পৃথকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট করতে হবে। আরপিও সংশোধন করা হলে আমরা সেটা মানব না। অর্থাৎ আরপিও আগের মতোই রাখতে হবে। এগুলোই এখন আমাদের মূল দাবি।’

মামুনুল হক বলেন, ‘আশা করি আলোচনার ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দল সমাধান করতে পারবে এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির মাধ্যমে আগামী নির্বাচন হবে ইনশাআল্লাহ।’

সরকার যে সাত দিন সময় দিয়েছে, সে বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি দলগুলো বসে একমত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের আমির মাওলানা রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিই প্রধান বিষয়। এটি না হলে এ সরকার, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সবই আইনের প্রশ্নে পড়ে যাবে। ৫ আগস্টের পর সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন এই দায়িত্ব নিয়ে সরকার গঠিত হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে সংস্কার কমিশন হয়েছে, ঐকমত্য কমিশন হয়েছে, গণভোটের বিষয়ে সবাই একমতও হয়েছে। এখন গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তা দুঃখজনক। এই ক্ষেত্রে বিএনপির আচরণের কোনো অর্থ আমি বুঝি না।’

কর্মসূচি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগে পৃথক দিনে গণভোট আয়োজন ও সংশোধিত আরপিও বহালের দাবিতে আগামী ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার গণমিছিল ও প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেবে আন্দোলনরত দলগুলো। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার রাজধানীতে সমাবেশ করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গতকালের বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক ও মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব মো. কাজী নিজামুল হক নাঈম, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ও মুহাম্মাদ মুনতাসীর আলী এবং ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান প্রমুখ।