২০০৮ সালের পর এবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করবেন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আসনগুলো হলো দিনাজপুর-৩ ও বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসন। গতকাল সোমবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে সারা দেশের বিভিন্ন জেলার পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সব আসনেই নির্বাচিত হন। সেবার বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে পাঁচটি করে আসনে নির্বাচন করেন। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের আমলে অর্থাৎ ২০০৮ সালে তিনি তিনটি আসনে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া দন্ডিত হওয়ায় প্রার্থী হতে পারেননি। তখন এ আসনে বিএনপির হয়ে লড়াই করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বিজয়ী হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। পরে উপনির্বাচনে বিএনপি নেতা গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ধানের শীষে ভোট করে বিজয়ী হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি।
প্রায় দুই দশক ধরে দল ও নির্বাচন পরিচালনায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কখনো সরাসরি ভোটের মাঠে প্রার্থী হননি; তবে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ২০২৬ সালের অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি যে প্রার্থী হচ্ছেন, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। অক্টোবরের শুরুতে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে যখন তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হলো, তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কি না তিনি বলেছিলেন, ‘জি, ইনশাআল্লাহ।’ এবার তিনি লড়বেন বগুড়া-৬ আসন থেকে। এ আসনে নির্বাচন করতেন তার মা খালেদা জিয়া।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়ার পর প্রায় দেড় যুগ তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। কয়েক মাস আগে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ঢাকায় এসেছিলেন। চলতি মাসে তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে তিনি সৌদি আরবে যাবেন। সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরবেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।