দেশ সংকটময় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে : সিইসি

বাংলাদেশ এখন খুব একটা সংকটময় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে, দেশ হিসেবে কোন দিকে যাব, গণতন্ত্রের পথে কীভাবে হাঁটবো সবকিছুই নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের ওপর।’

গতকাল সোমবার জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা মহড়া ও চতুর্থ ধাপের আনসার কোম্পানি-প্লাটুন সদস্যদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বকে আমি কখনো রুটিন দায়িত্ব হিসেবে নিইনি। এটা আমি চাকরি হিসেবে দেখি না, বরং আমি এটাকে একটি মিশন ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এমন সংকটময় সময়ে দেশে গতানুগতিকভাবে কাজ করলে হবে না, আমাদের আউট অব দ্য বক্স হয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ লাখ মানুষ আগামী জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরাই মূল শক্তি হিসেবে কাজ করবেন।’

সিইসি জানান, এবার যারা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন, তারা যেন ভোট দিতে পারেন, সেজন্য পোস্টাল ব্যালট অ্যাপ চালু করা হবে ১৬ নভেম্বর। এ ছাড়া কারাবন্দি ভোটার ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য বা এআইয়ের অপব্যবহার রোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, যেকোনো সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলেই বিশ্বাস করবেন না, যাচাই করে তারপর শেয়ার করবেন। নেতিবাচক ও ভিত্তিহীন সংবাদ ছড়িয়ে দিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সেই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনে ইতিমধ্যে ভুয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন হলে নাগরিকরা সত্যতা যাচাই করতে পারবেন।

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে সিইসি বলেন, ট্রেনিং কোনো খরচ নয়, এটা বিনিয়োগ। যত বেশি প্রশিক্ষণ, তত বেশি দক্ষতা। আমি স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় ব্যয়কেও বিনিয়োগ হিসেবে দেখি, কারণ এটি ব্যক্তির এবং জাতির উন্নয়নের ভিত্তি।

তিনি আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এই প্রশিক্ষণ শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।