বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে অক্টোবর মাসে আগের বছরের তুলনায় ৭.৪৩ শতাংশ হ্রাস দেখা গেছে। এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর মাসে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৩.৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ৪.১৩ বিলিয়ন ডলারের ছিল। তবে সেপ্টেম্বারের তুলনায় এই মাসে রপ্তানি সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
রপ্তানিকারকরা আশঙ্কা করছেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক এবং ব্যাংক খাতের চলমান সংকটের কারণে সামনের মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আশা করা কঠিন।
ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম.এ. রহিম ফিরোজ বলেন, ‘আমাদের অর্ডার আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বড় ক্রেতারাও অর্ডার কমিয়েছে। এর ফলে নিটিং ও ডাইং ইউনিটের কাজও কমে গেছে। আগামী নির্বাচনের আগে অর্ডারের প্রবাহ বাড়ার সম্ভাবনা নেই।’
বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে অর্ধেক পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এবং একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ৮.৩৯ শতাংশ কমেছে।
বিজিএমইএ সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘পোশাক রপ্তানি কমার তিনটি প্রধান কারণ—নির্বাচনকালীন অস্থিরতার কারণে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের ফলে চীনা রপ্তানিকারকের ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ, এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের কারণে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি না খোলা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে ক্রেতারা ঝুঁকি নিতে চাইছে না। চীনের রপ্তানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে, যা আমাদের বাজারকে কিছুটা সঙ্কুচিত করছে।”
অন্য রপ্তানিকারকরাও জানিয়েছেন, সরকারি ঘোষণার পর অনেক আমানতকারী সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। ফলে গার্মেন্টস মালিকরা ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খুলতে পারছেন না, এবং ব্যাংক পরিবর্তন করাও সহজ নয়।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে কেবল জুলাই মাসে রপ্তানি বেড়েছিল, পরের তিন মাসে হ্রাস দেখা গেছে। তবে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ২.২২ শতাংশ বেড়েছে। এই ৪ মাসে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি হয়েছে ১৬.১৪ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৫.৭৯ বিলিয়ন ডলার।
অক্টোবর মাসে তৈরি পোশাক ছাড়াও হিমায়িত ও জীবিত মাছের রপ্তানি কমেছে ১৩ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য ১২ শতাংশ এবং কৃষিপণ্য ১০ শতাংশ। অন্যদিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ১৩ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্য ৭ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইল ১৪ শতাংশ বেড়েছে।