আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুরের তিনটি আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দলটির একসময়ের তিন প্রভাবশালী নেতার উত্তরাধিকারীদের। গত সোমবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন শেরপুর-১ (সদর) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীর মেয়ে ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সাবেক এমপি মরহুম ডা. সিরাজুল হকের ছেলে তিনবারের এমপি মাহমুদুল হক রুবেল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ তিন প্রার্থীর মধ্যে বিগত ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের সময় সবচেয়ে বেশি মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। সে সময় তিনি নির্বাচনের দিন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনে মাঠেই দাঁড়াতে পারেননি। তারপরও তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মিছিল-মিটিং ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। শেরপুর-১ আসনের প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কাও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রচারণার শুরুর দিন থেকেই আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার শিকার হন। তবে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী বিগত ১৭ বছরের তার নির্বাচনী এলাকায় খুব একটা কর্মকা-ে ছিলেন না। এমনকি সরকারবিরোধী নানা আন্দোলনেও তাকে দেখা যায়নি। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বাবার উত্তরাধিকার হিসেবে হয়তো তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে উল্লিখিত তিন প্রার্থী মনোনয়ন দৌড়ে নিজেকে সফল করতে ব্যাপক গণসংযোগ, নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড, সভা-সমাবেশ, উঠোন বৈঠক, পথসভা এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রচারণার লিফলেট বিতরণ করেছেন।
শেরপুর-১ আসন থেকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বাবা হযরত আলীর পরিবর্তে মেয়ে সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা প্রথমবারের মতো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী পাঁচ বারের এমপি ও সাবেক হুইপ আতিউর রহমান আতিকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শেরপুর-২ আসন থেকে ষষ্ঠ ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর বাবা জাহিদ আলী চৌধুরী দুই বারের এমপি ও অষ্টম জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন। শেরপুর-৩ আসন থেকে মাহমুদুল হক রুবেলের বাবা ডা. সেরাজুল হক ১৯৭৯-১৯৮৩ সাল পর্যন্ত জামালপুর-৮ (শেরপুর ছিল তৎকালীন জামালপুর জেলার অধীনে) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর ১৯৯১-১৯৯৪ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তার মৃত্যু হলে উপনির্বাচন ছেলে মাহমুদুল হক রুবেল বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে এমপি নির্বাচন হন।