মতপার্থক্য যেন মতবিরোধে না গড়ায়

১৫ দিনের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক সফর শেষে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু মতপার্থক্য যেন মতবিরোধে না গড়ায়।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতানৈক্য থাকবে, তবে দোয়া করেন মতবিরোধ যেন না হয়। মতের ভিন্নতা থাকবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সব দল তো এক দল নয়। সবগুলো দল ভিন্ন ভিন্ন। তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও মতপার্থক্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা সকলের মতকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি।’

গত সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপদেষ্টারা। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াত আমির রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এ আহ্বান জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি। আমি দেখেছি, ২৩৭টা আসনে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছেন। আবার প্রশ্নোত্তরে বলেছেন, এটি চূড়ান্ত নয়। এর মধ্যেও পরিবর্তন আসতে পারে। আমরা কিন্তু এক বছর আগেই প্রায় বিভিন্নভাবে, আঞ্চলিকভাবে এই তালিকাটা জানিয়ে দিয়েছি। চূড়ান্ত তালিকাটা সময়মতো কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ঘোষণা করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমরা একা ইলেকশন করব না, আরও অনেককে আমরা ধারণ করব দেশ ও জাতির স্বার্থে, সেহেতু সবদিক বিবেচনা করেই যথাসময়ে প্রার্থী ঘোষণা করব।’

আবারও আমির নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমির হিসেবে আমি নির্বাচিত হইনি বরং আমার সহকর্মীরা আমার ওপর একটি দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। বিদেশে যেখানেই গিয়েছি দেশ ও দেশের স্বার্থের কথা বলেছি। যত জায়গায় গিয়েছি, সব জায়গায় প্রশংসা পেয়েছি।’

প্রবাসীদের ভোটার তালিকা নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ, এবারই প্রথম প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় ব্যাপকভিত্তিক সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। অক্টোবরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যে সফটওয়্যার ইনস্টল করা হয়েছিল তা কাজ করেনি প্রপারলি। সঙ্গত কারণে অনেকে আগ্রহ ও চেষ্টা সত্ত্বেও ভোটার হতে পারেননি।’

নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কমপক্ষে আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে দেওয়া হোক। যে জটিলতাগুলো আছে তা সহজ করা হোক। যেসব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে তা শিথিল করা হোক। একজন নাগরিকের প্রমাণের জন্য তার এনআইডি যথেষ্ট। পাশাপাশি যদি একটা ভ্যালিড পাসপোর্ট থাকে তাহলে তো আর কিছুর প্রয়োজন হয় না। এগুলো সহজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদসহ সরকার পরিচালনা, দেশ গঠনে পিআর সিস্টেমেই প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করবেন। হয়তো সময় লাগবে, তবে এটা নিশ্চিত করা হবে। এটা আমাদের স্বপ্ন।’