অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে প্রায় অসম্ভব এক প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল নিউজিল্যান্ড। ৯ উইকেটে ১৪৫ রান, শেষ ওভারে দরকার ২০। ২২ বলে ৪৪ রান করা মিচেল স্যান্টনার ছিলেন বলে আশা করছিল কিউইরা। কিন্তু রোমারিও শেফার্ডের ঠাণ্ডা মাথার বোলিংয়ে ১২ রান নিতে পারে নিউজিল্যান্ড। ৭ রানে ম্যাচ জিতে নিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশ কদিন আগে হোয়াইটওয়াশ করে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতলো। আগের ১১টির মধ্যে দুটি ম্যাচ টাই করে ক্যারিবীয়রা। এর মধ্যে একটি টাই ম্যাচে সুপার ওভারে জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৬৪ রানের ইনিংসে (৬ উইকেটে ১৬৪) সর্বোচ্চ ৫৩ রান আসে অধিনায়ক শাই হোপের ব্যাট থেকে। রোভম্যান পাওয়েল করেন ৩৩। জ্যাকব ডাফি নিয়েছেন ২ উইকেট ১৯ রানে। জবাবে নিউজিল্যান্ড থামে ৯ উইকেটে ১৫৭ রানে।
ছোট মাঠেও অসাধারণ নিয়ন্ত্রণে বোলিং করেছেন রোস্টন চেজ। তার নিখুঁত লাইন-লেংথ ও ঘূর্ণির মায়াজালে একের পর এক কিউই ব্যাটার বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে গেছেন সাজঘরে। চেজের ৪ ওভারে ২৬ রানে ৩ উইকেট—সংখ্যাটা যতটা সুন্দর, তার প্রভাব ছিল তার চেয়েও বেশি। তার স্পেলেই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
৭০ রানে ২ উইকেট থেকে ৩৭ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ৯ উইকেটে ১০৭ রানে পরিণত হয় নিউজিল্যান্ড। এরপর দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। চেজসহ বাকি বোলারদের সামলিয়ে ধীরে ধীরে হাত খুলে মারতে থাকেন তিনি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২০ রান দরকার ছিল নিউজিল্যান্ডের। প্রথম দুটি বল ডট গেলেও তৃতীয় বলে ছক্কা মেরে আশা জাগান তিনি, যদিও শেষ পর্যন্ত সেই লড়াই সফল হয়নি। ২৮ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন এই দীর্ঘদেহী বাহাতি।
এই ম্যাচে ছিল এক ভিন্ন স্বাদ—ডিআরএস ব্যবস্থার বাইরে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে। তিন মাস পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দুই দলই এই সিরিজকে প্রস্তুতি হিসেবে নিচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৭/৯ (স্যান্টনার ৫৫*, রবিনসন ২৭, রবীন্দ্র ২১; চেজ ৩/২৬, সিলস ৩/৩২)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: রোস্টন চেজ