৩ মোটরসাইকেলে আসে ৬ ‘শুটার’

চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী গণসংযোগে গোলাগুলিতে অংশ নেয় ছয় ‘শুটার’। তাদের কেউ কেউ ছিল মুখোশ ও হেলমেট পরা। তিনটি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল আসে তারা। প্রায় চার-পাঁচ মিনিট এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে সরোয়ার বাবলাকে গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সরোয়ার। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। গোলাগুলিতে পিস্তল, শটগান ব্যবহার করে হামলাকারীরা।

পুলিশ বলছে, হামলার টার্গেট এরশাদ উল্লাহ ছিলেন না। হামলাটি হয়েছে সরোয়ার বাবলাকে টার্গেট করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা ছয় যুবক এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গণসংযোগের সময় খুব কাছে থেকে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়া হয়। রক্তে ভিজে পড়েছিল প্রচারণার ব্যানার।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বায়েজিদ থানাধীন চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। পরে গণসংযোগ করে সবার সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গলির দিক থেকে এলোপাতাড়ি গোলাগুলি শুরু হয়। ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে উপস্থিত লোকজন। বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর পায়ে ছররা গুলি লাগে। আহত অবস্থায় দ্রুত তাকে অক্সিজেন এলাকায় বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল মান্নান বলেন, ‘তিনটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন আসে। তারা ছিল হেলমেট পরা। কারও মুখে ছিল মাস্ক। তাদের সবার হাতে ছিল পিস্তল ও শটগান। মিনিট চারেক গুলি ছোড়ে তারা।’

পুলিশও বলছে, হামলাটি হয়েছে সরোয়ারকে ‘টার্গেট’ করে। বুধবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিক অনুমানে যেটা মনে হচ্ছে, এরশাদ সাহেব তাদের টার্গেটে ছিলেন না। টার্গেট ছিল সরোয়ার বাবলা, তিনি মারা গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা কারা ঘটাতে পারে আমাদের প্রাথমিক অনুমান আছে। এটা মামলা হবে, তদন্ত হবে। প্রাথমিকভাবে কিছু অনুমান করেছি, কারা করেছে ঘটনাটা। তাৎক্ষণিকভাবে যেটা বলব, এরশাদ উল্লাহ টার্গেট ছিলেন না। সরোয়ার বাবলা টার্গেট ছিলেন। কারণ আমরা যেটা শুনলাম, গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।’

সিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘এটা সরোয়ার বাবলার এলাকা ছিল। বাইরে থেকে এসে হামলা করেছে। এরশাদ উল্লাহ এখানে এসেছেন, নামাজ পড়েছিলেন। সরোয়ারের বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে।’

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চালিতাতলী পূর্ব মসজিদের কাছে জনসংযোগের সময় গুলি ঘটনায় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সরোয়ারের মৃত্যু হয় বলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমীরুল ইসলাম জানান।

নিহত সরোয়ার পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, ইদানীং তিনি নিজেকে বিএনপি কর্মী দাবি করতেন। আর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইরফানুল হক শান্ত ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। গুলিবিদ্ধ আমিনুল হক ও মর্তুজা হকও বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। তবে এটি বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনগুলোর ‘নিজেদের মধ্যে কোনো ঘটনা নয়’ বলে ওই বিএনপি কর্মীর দাবি।

চলতি বছর ৩০ মার্চ চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় প্রাইভেট কারকে ধাওয়া করে গুলি করা হয়। চালকের পাশের আসনে বসা ছিলেন সরোয়ার। সেদিন গুলিতে মারা যান বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আবদুল্লাহ। ওই ঘটনায় ‘মূল টার্গেট’ ছিলেন সরোয়ার। সেদিন কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।