দেশজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে ‘দেলুপি’ 

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের মানুষের দৈনন্দিন জীবন-যাপনের ভয়ংকর বাস্তবতা ও দুঃখ-দুর্দশার কথা নির্মিত হয়েছে ‘দেলুপি’ সিনেমা। গত বুধবার বিকেলে দেলুটি ইউনিয়নের দারুণ মল্লিক প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেলুপি’ সিনেমার প্রিমিয়ার প্রদর্শনী। সিনেমার প্রিমিয়ার প্রদর্শনীতে গ্রামের স্কুল মাঠ উৎসবের মেলায় রূপ নেয়। তবে বুধবার প্রিমিয়ার হলেও খুলনার সিনেমা হলে দেলুপি মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। আর সারাদেশে সিনেমা হলে মুক্তি পাবে ১৪ নভেম্বর। 

জানা গেছে, সিনেমার প্রিমিয়ার প্রদর্শনীতে শত শত দর্শক বিকেল থেকেই জড়ো হন প্রিয়জনদের সঙ্গে সিনেমাটি দেখতে। অনেকের হাতে পোস্টার, সব মিলিয়ে পুরো এলাকা ছিল আনন্দ আবহে ভরপুর। সিনেমা শেষে দর্শকদের চোখে মুখে ছিল উচ্ছ্বাস ও আবেগের ঝলক। নিজেদের গল্প এভাবে পর্দায় দেখে স্থানীয় মানুষজন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সবাই সিনেমাটিকে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা দায়ক বলে মন্তব্য করেন। 

দেলুটি গ্রামের বাসিন্দা শামীমা আক্তার বলেন, আমাদের এলাকার নামেই সিনেমা হয়েছে এটা ভাবতেই গর্ব লাগে। সিনেমাটা খুব বাস্তব, যেন আমাদের জীবনের গল্প।

স্থানীয় ৫ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বদিয়ার রহমান বলেন, ভাঙন আমাদের নিয়তি ছিল। কিন্তু সেই ভাঙনের কারণেই আমরা নিজেদের অবস্থা সিনেমার মতো বড় পর্দায় দেখতে পারছি। ‘দেলুপি’ সিনেমার মাধ্যমে আমাদের দৈনন্দিন জীবন-যাপনের ভয়ংকর বাস্তবতা ও দুঃখ-দুর্দশার কথা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছাবে। আশা করি এই সিনেমার হাত ধরে আমাদের নিয়তি বদলাবে। 

চলচ্চিত্রটির পরিচালক মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের জীবন, বাস্তবতা আর সম্পর্কের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কাল্পনিক বাস্তবতা হিসেবে দেলুপির গল্প লেখা। যা শুধু এই অঞ্চলের নয়, বরং একই সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের জীবনের সঙ্গে মেলাতে পারবে। স্থানীয় মানুষদের পাশে পেয়ে আমি অনুপ্রাণিত। এই ভালোবাসাই আমাদের সিনেমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

এই সিনেমার মধ্যে দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে পরিচালক মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামের। তার কাজে সব সময় থাকে লোকাল ফিলিংস। এর আগে তাওকীর ২০২২ সালে রাজশাহী শহরকে কেন্দ্র করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য নির্মাণ করেন ‘শাটিকাপ’, যা সমালোচক ও দর্শক দু’পক্ষের মনোযোগ কাড়ে। পরে ২০২৪ সালে আসে ‘সিনপাট’ আরও একবার আলোচনায় আনেন তরুণ এই পরিচালককে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে ফুটপ্রিন্ট ফিল্ম প্রোডাকশন।