ইসরায়েলের অস্ত্রের চালান আটকে দিয়েছে বেলজিয়াম

প্রায় এক মাস ধরে ইসরায়েলের অস্ত্রের একটি চালান আটকে রেখেছে বেলজিয়াম। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গত বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বেলজিয়ান বার্তা সংস্থা বেলগা নিউজ এজেন্সি। বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ওয়ালোনিয়ায়ার প্রাদেশিক সরকার আটকে দিয়েছে চালানটি। এই চালানে সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি-সংশ্লিষ্ট যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ এবং অ্যান্টেনা রয়েছে। গত ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দর থেকে এই যন্ত্রাংশ এবং অ্যান্টেনাবাহী একটি কার্গো বিমান বেলজিয়ামের লেইজ বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এসব যন্ত্র-যন্ত্রাংশ এবং অ্যান্টেনাগুলো সুইস কোম্পানি সুইসটো ১২-এর তৈরি। লেইজে যাত্রাবিরতি শেষে বিমানটির ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। এর ২ দিন আগে ৭ অক্টোবর এই অস্ত্রের চালান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল সুইস সংবাদমাধ্যম হেইদি নিউজ। সেই প্রতিবেদনটি নজরে এসেছিল ওয়ালোনিয়ার প্রাদেশিক সরকারের। জুরিখ থেকে কার্গো বিমানটি লেইজে পৌঁছানোর পরপরই কার্গো বিমানটি আটকে দেয় বিমানবন্দর প্রশাসন।

প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা বলেছেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে কার্গো বিমানটিতে যে মালপত্র রয়েছে, সেগুলো সামরিক উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যেহেতু এগুলো সামরিক সরঞ্জাম, তাই প্রচলিত আইন অনুসারে ছাড়পত্রের জন্য আমরা বিমানটির চালক ও ক্রুদের সুইজারল্যান্ড সরকারের রপ্তানি লাইসেন্স এবং ওয়ালোনিয়ার ট্রানজিট লাইসেন্স প্রদর্শন করতে বলেছিলাম। তারা সেসব নথি প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে, তাই কার্গো বিমানটি এখনো লেইজ বিমানবন্দরেই আছে। এ বিষয়ে ওয়ালোনিয়ার মুখ্যমন্ত্রী অ্যাড্রিয়েন ডলিমন্ট বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ইসরায়েলে অস্ত্রের চালান যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে আছি।

প্রসঙ্গত, গত অক্টোবরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বৈশ্বিক সম্মেলন আয়োজন করেছিল ফ্রান্স এবং সৌদি আরব। সেই সম্মেলনে ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া এসব দেশের মধ্যে বেলজিয়াম অন্যতম।