জুলাই সনদে কোনো নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না : নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “জুলাই সনদের যে পথে তারা এগোচ্ছেন, সেটি বাস্তবায়িত হবেই। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এই সনদের আদেশ দিতে হবে এবং এখানে কোনো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকবে না।”

গতকাল শুক্রবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সম্মেলন কক্ষে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের (ইউটিএফ) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ১৬ বছরের শিক্ষা খাতের রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হতো। ফ্যাসিবাদী কাঠামো এখনো টিকে আছে। ব্যক্তি ও সমাজের চিন্তার পরিবর্তন ছাড়া ফ্যাসিবাদ নির্মূল সম্ভব নয়। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শিক্ষকরা কাজ করে যাচ্ছেন। তাই আমাদের সবাইকে শিক্ষকদের পাশে থাকা দরকার।’ শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে না পারলে রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। সরকারের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার ছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ব্যর্থ হলেও আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেকারত্ব দূর করতে হলে প্রথমেই শিক্ষা খাতকে সংস্কার করতে হবে। আমরা যদি শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে না পারি, তাহলে রাষ্ট্রের পরিবর্তনও অসম্ভব হয়ে পড়বে।’

সবশেষ নাহিদ ইসলাম বলেন, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে নির্বাচনের দিকে এগোনো হবে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে। পরিবর্তন ছাড়া অভ্যুত্থান, নির্বাচন, ঐকমত্য কমিশন সবকিছুই ব্যর্থ। পরিবর্তন না হলে তরুণরা প্রয়োজনে আবারও রাস্তায় নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামো এখনো রয়ে গেছে। সেজন্য ঐকমত্য প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও একমত হওয়া যাচ্ছে না।

ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আত্মপ্রকাশ; নেতৃত্বে ড. সিরাজুল ইসলাম-ড. শামীম

দেশের সরকারি-বেসরকারি ও প্রবাসী শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের (ইউটিএফ) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শামীম হামিদী। গতকাল শুক্রবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।

সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খো. লুৎফুল এলাহী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহিব্বুল্লাহ, অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী, ড. মো. আব্দুল্লাহহিল বাকী, অধ্যাপক ড. মো. শামসুজ্জোহা, অধ্যাপক ড. মো. মমতাজুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, অধ্যাপক ড. এম সিরাজুল ইসলাম, আল-ফয়সাল, অধ্যাপক ড. এবিএম শরীফ হোসাইন, অধ্যাপক ড. এম আনোয়ার হোসাইন। যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. মাসুদা পারভীন, ড. মো. ইসমাইল হোসাই, ড. এহতেশাম উল হক ইতেন, ড. মোহাম্মদ তুহিন মিয়া, ড. মো. শামিম ম-ল, ড. আতিক মুজাহিদ, ড. মো. নুরুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, দিদার মুহাম্মদ, আলাউদ্দীন মোহাম্মদ ও মাহবুব আলম। প্রধান সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. কবীর উদ্দিন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।