দুদক কমিশনার

সরকার প্রধান, বিচার প্রধান, খতিব, পুরোহিত দুর্নীতিতে রসগোল্লার মতো ডুবে ছিল

দেশের সরকার প্রধান থেকে শুরু করে বিচার প্রধান, বাইতুল মোকাররমের খতিব থেকে শুরু করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত দুর্নীতিতে রসগোল্লার মতো ডুবে ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী।

রবিবার পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে দিনভর গণশুনানি আয়োজনে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আপনাদের যুবক সন্তানেরা জীবন বাজি রেখে পথে নেমেছিল এবং অন্যায়ের প্রতিকার করেছে। এতো দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে যে এখন আমরা সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরতে পারি না।

একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেছে এটাকে সারানোর চাইতে দুর্নীতি যেন আর কেউ না করে, কোন কর্মচারী যেন দুর্নীতি করার দুঃসাহস না দেখায় সেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সেবা গ্রহিতাগণ একটু পেছন থেকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন না দেন। যারা সেবা গ্রহণ করবার জন্য গিয়েছি তাদেরকে অন্তত ওই নীতিবোধ থাকতে হবে যে আমি অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করছি বাড়তি কিছু দিয়ে। তাতে দুটো অপকার হচ্ছে। যার প্রাপ্যতা ছিলো তাকে বঞ্চিত করলাম। আর যে মানুষটি এই সেবা দেয়ার জন্য নিয়োজিত তার ঈমানটাকে নিলামে তুলে দিলাম।

আমরা যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আমাদেরকেও সংবরণ করতে হবে। সেবা গ্রহিতাদের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়। আমরাটা এটি ভুলে যাই। কখনো কখনো মাথায় কারো হাত থাকলে আমরা লাইনচ্যুত হই। হতে পারেন তিনি বড় ভাই, রাজনীতিবিদ বা আর কেউ। কিন্তু আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত না ওই বড় ভাই একদিন হাত সরিয়ে নিবেন বা তিনিই একদিন থাকবেন না। অল্প কিছুদিন আগে এমন ঘটনা ঘটে গেছে। এর বড় সাক্ষী আপনার। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

গণশুনানিতে অন্যদের মধ্যে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন, জেলা প্রশাসক সাবেত আলী, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. খালেদ তৌহিদ পুলকসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে সরকারি বেসরকারি ৪২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৮১টি অভিযোগ জমা হয়েছিল তার মধ্য ১১৮টি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ নিষ্পত্তিও করা হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহযোগিতায় দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কাকার্যালয় ঠাকুরগাঁও এই গণশুনানির আয়োজন করে।