চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবদলকর্মী আবদুল হাকিম হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল, রিভলভার, গুলি ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) রাতে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকায় আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের মুখপাত্র রাসেল জানান, হাকিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর বিকেলে রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের হামিম অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে প্রাইভেটকারে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট সেতুর পশ্চিম প্রান্তে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন অস্ত্রধারী হাকিমের গাড়ি থামিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান হাকিম (৫২), গুরুতর আহত হন তার গাড়িচালক।
এ ঘটনায় গত ৩১ অক্টোবর মো. আবদুল্লাহ খোকন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে হাকিম হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন তিনি।
খোকনের তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ নভেম্বর একই এলাকার চৌধুরীহাট থেকে মো. মারুফ নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার তথ্য অনুযায়ী ৫ নভেম্বর রাতে মো. সাকলাইন হোসেন ও জিয়াউর রহমানসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলভার, কয়েক রাউন্ড গুলি ও হত্যায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে দুজন সরাসরি গুলি চালিয়েছিল, বাকিরা পরিকল্পনা ও সহযোগিতায় যুক্ত ছিল।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আজিজ বলেন, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যা। প্ররোচনাকারীরা ভাড়াটে খুনি নিয়োগ দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এ ঘটনার মূল অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে।
নিহত আবদুল হাকিম রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী ছিলেন। তিনি হামিম অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বালুমহাল ও নদী দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের হুমকি পেয়ে তিনি সম্প্রতি আতঙ্কে ছিলেন।