সিরাজুল হত্যা রহস্য মোড় নিল ভিন্ন খাতে

ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যা করিয়েছেন মা!

মাদকাসক্ত ছেলে সিরাজুলের (২৫) অত্যাচার সইতে না পেরে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নিজের মা শেফালী খাতুনের বিরুদ্ধে। গত ২৯ অক্টোবর ভোরে উপজেলার পূর্ব চরকৈজুরী গ্রামে বাড়ি থেকে সামান্য দূরে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় সিরাজুল ইসলামের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা শেফালী খাতুন বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা বিভাগ দ্রুত সময়ের মাধ্যমে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে জড়িত খুনিদের আটক করতে সক্ষম হয। আটককৃতরা হলেন মৃত আলহাজ ওয়াজেদ মন্ডলের ছেলে আল আমীন মন্ডল (৩৮), সানোয়ার মন্ডলের ছেলে সেলিম মন্ডল (৩২), শহিদ আলী মন্ডলের ছেলে আমিরুল ইসলাম (৩৩), মৃত ইয়াছিন প্রামাণিকের ছেলে ওমর ফারুক (৩৮) ও মৃত আজগর প্রামানিকে ছেলে আব্দুল গফুর প্রামাণিক (৫৫)। এরা সকলেই পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের বাসিন্দা। আটককৃতদের মধ্যে ফারুক সিরাজুল হত্যা মামলার স্বাক্ষী বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, চরকৈজুরী গ্রামের মুসা মন্ডল গোষ্ঠীর সঙ্গে গোপালপুর গ্রামের খোকন মাস্টার (চেয়ারম্যান) গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ২০২১ সালে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে খোকন মাস্টার গ্রুপের একজন নিহত হন। পরবর্তীতে এই হত্যা মামলা ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় আপস-মীমাংসা হয়। এর মধ্যে আসামিপক্ষ বাদী পক্ষের খোকন মাস্টারকে ৫ লাখ টাকা দেয়। অবশিষ্ট টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা চলছিল। খোকন মাস্টার গ্রুপের লোকদের ফাঁসাতে মুসা মন্ডল গ্রুপের লোকজন মাদকাসক্ত সিরাজিুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ নিয়ে গোপনে হত্যাকারীরা সিরাজুলের মায়ের সঙ্গে বৈঠক করে। দেড়লাখ টাকায় রফা হয় সিরাজুলের মা শেফালী খাতুনের সাথে।

গত ২৮ অক্টোবর সিরাজুলকে খুনিরা বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন ২৯ অক্টোবর ভোরে সিরাজুলকে মৃত অবস্থায় চরকৈজুরী রাস্তার পড়ে থাকতে দেখে তার পরিবারকে খবর দেয়। পুলিশ এসে এদিন ঘটনাস্থল থেকে সিরাজুলের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। হত্যা মামলার বাদী হয় নিহতরের মা শেফালী খাতুন।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে শাহজাদপুর থানারা অফিসার ইনচার্জ আসলাম আলীর নেতৃত্বে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পুলিশের সমন্বয়ে একটি  তদন্ত টিম গঠন করা হয়। সোমবার শাহজাদপুর থানর অফিসার ইনচার্জ আসলাম আলী জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে গত ৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত হলেন আলহাজ ওয়াজেদ মন্ডলের ছেলে আল আমীন মন্ডল, মো. সানোয়ার মন্ডলের ছেলে সেলিম মন্ডল, শহিদ আলী মন্ডলের ছেলে আমিরুল ইসলাম, মৃত ইয়াছিন প্রামাণিকের ছেলে ওমর ফারুক ও মৃত আজগর প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল গফুর প্রামাণিক। পরদিন শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অফিসার ইনচার্জ আসলাম আলী আরও জানান, রিমান্ড চলাকালে আসামিরা সিরাজুল হত্যার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

এদিকে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আসলাম আলী জানান, আসামিদের জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এই ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে জন্য পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিহত সিরাজুলের মা শেফালী গা ঢাকা দেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।