ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুজনকে গুলি করে হত্যা মামলায় রিফাত বাহিনীর প্রধান রিফাত আহমেদ (২৫) ও তার সহযোগী লিমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি ম্যাগাজিন এবং সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর খোসকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিফাত ও তার সহযোগী লিমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা নবীনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
বিকেলে র্যাব-৯-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নূরনবী জানান, নবীনগরের বড়িকান্দি ইউনিয়নের গণিশাহ মাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রিফাত বাহিনী ও শিপন শাহ বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এর জের ধরে গত ১ নভেম্বর রাতে শিপন শাহ গণিশাহ মাজারের পাশের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় রিফাত তার বাহিনীসহ হামলা চালায়। এ ঘটনায় শিপন, ইয়াসিন ও নুর আলম গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই শিপন শাহ নিহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াসিন মারা যান।
পরে শিপন বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা হামলা চালালে এমরান মাষ্টার নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনার পর ৭ নভেম্বর র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পার্শ্ববর্তী বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মরিচাকান্দি এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটটি পাইপগানসহ ৪৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে র্যাবের একটি দল উজানচর খোসকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিফাতকে গ্রেপ্তার করে। তার প্রদত্ত তথ্যমতে, সহযোগী লিমনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও সাত রাউন্ড গুলি।
র্যাব জানায়, রিফাতের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।