প্রধান উপদেষ্টাকে মিসগাইড করছেন তিন উপদেষ্টা

আলাদাভাবে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘অন্তর্র্বর্তী সরকার এখন আর নিরপেক্ষ নেই। নির্বাচন দিয়ে  যেনতেনভাবে একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে কাজ করছে তারা।’

গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমমনা ৮ দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

‘সরকারের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়’ এমন দাবি করে ডা. তাহের বলেন, ‘বিএনপির চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট  কোনোভাবেই একসঙ্গে নয়।

আলাদাভাবে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করার আহ্বান জানাই আমরা।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে সেটা উপেক্ষিত হয়েছে। আগামীকাল রবিবার ৮ দলের বৈঠকের পর ৫ দফার বিষয়ে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে তাহের বলেন, ‘কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টা আছেন, যারা প্রধান উপদেষ্টাকে মিসগাইড করছেন, আমরা তাদের অপসারণ দাবি করছি। আমরা আজ নাম বলতে চাই না, তবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের নাম আমরা পাঠাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি এবং এই সরকার বুঝে হোক না বুঝে হোক, ইচ্ছাকৃত হোক অথবা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে হোক, তারা একটি দলের ফাঁদে পা দিয়েছে। সংস্কারকে প্রায় গুরুত্বহীন করে ফেলেছে। এর আগেও আমরা দেখেছি যে এই সরকার দলটির প্রতি নানাভাবে আনুগত্য এবং দুর্বলতা প্রকাশ করছে। সেটা শুরু হয়েছিল লন্ডনে গিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে।’

তাহের আরও বলেন, ‘প্রশাসনের যেসব পরিবর্তন হচ্ছে, সেখানে নিরপেক্ষ এবং বিশেষ করে সৎ এবং জবাবদিহির আওতায় থাকতে পারে মনোভাবের লোকদেরই নিয়োগ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার জন্য সেখানে চেষ্টা করতে হবে।’

‘নির্বাচন অবাধ হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট শঙ্কা এবং আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে’এমন মন্তব্য করে তাহের বলেন, ‘আরেকটি পরিকল্পিত এবং পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনের আয়োজনের ভিত্তিতে নির্বাচন হচ্ছে কি না, এ ব্যাপারে আমাদের মনে এবং জনগণের মনে আশঙ্কা তৈরি করছে। সরকারের আচরণ আমাদের এই কথা বিশ্বাস করতে বাধ্য করছে যে এই সরকারের অধীনেও কোনো সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়।’

বিএনপি কখনোই আদেশ বা আদেশের মাধ্যমে এটাকে সাংবিধানিক ভিত্তি দেওয়ার ব্যাপারে একমত ছিল না উল্লেখ করে তাহের বলেন, ‘তারা বিরোধিতা করেছিলেন; তারা একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই সংস্কারগুলোকে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। এখানে ড. ইউনূস সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত আদেশ দেওয়ার ওপর দৃঢ় ছিলেন। এ জন্য উনাকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব কাজী নিজামুল হক প্রমুখ।